

১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা ও সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা এবং ১:৪ অনুপাতে বেতন নির্ধারণের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরাম, চট্টগ্রামের নেতারা।
এ সময় ১১ থেকে ২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোহাম্মদ আসাদুর রহমান জুয়েল, বিআরইএলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম পাটোয়ারী, ১১ থেকে বিশেষ সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক আনারুল আজিম সবুজ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম প্রচার সম্পাদক এম এইচ সোহেল, চট্টগ্রাম নগরের আহ্বায়ক মাহবুবুল আরেফিন, যুগ্ম আহবায়ক জাফর আহমেদ মজুমদার, সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সদস্য শরিফ পাটোয়ারী, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আজিজ, মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মো. হামিদ, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ টিকলু তালুকদারসহ বিভিন্ন দপ্তরে নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য ও পদ বৈষম্য দূর না করে শুধু প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছেন।
এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বাড়ি থেকে এনে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছেন। এতে করে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটির দ্বারা ১১-২০ গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের বিন্দুমাত্র সফলতা আসেনি। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যুক্তিসংগত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বলা হয়েছে।
একজন কর্মচারীর পরিবারে ৬ জন সদস্য বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকায় ৩ বেলা খাবার, মাথা গোঁজার ঠাঁই, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদন ব্যয় মিটিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া ২০ থেকে ১১ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১২,৫০০ টাকায় শেষ হয়েছে।
এ ১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৪২৫০ টাকা। একই সময়ে ১০ থেকে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১৬,০০০ থেকে শুরু করে ৭৮,০০০ টাকায় শেষ হয়েছে। ১-১০ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৬২,০০০ টাকা। এছাড়াও কর্মকর্তাদের রয়েছে গাড়ি, আবাসিক সুবিধা, সুদমুক্ত গাড়ির ঋণ, কুক-মশালচি, দারোয়ানসহ নানাবিধ সুবিধা।
এমনকি সচিব ও সিনিয়র সচিবদের কুক ও গার্ড পদে লোক নিয়োগ দিয়ে সেবা না নিয়ে প্রতি মাসের বেতনের চেকের সাথে ১৬,০০০+১৬,০০০ = ৩২,০০০ টাকা করে প্রদান করাসহ একাধিক সুবিধা প্রদান করা হলেও আমাদের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি খাতে কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়নি।
১ম-২০তম গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১০। অথচ আমরা প্রত্যেকেই একই বাজার ব্যবস্থার কাঠামোর আওতায় জীবন ধারণ করি, এতে প্রতিদিন শ্রেণি বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করছে। ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল ইতোমধ্যে ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিক চাকরির ক্ষেত্রে পদবি অনুযায়ী সব সুযোগ সুবিধা সমানভাবে ভোগ করার কথা থাকলেও সচিবালয়ের বাহিরের দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
মন্তব্য করুন