ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফি না দেওয়ায় ছাত্রকে পরীক্ষায় বসতে দেননি অধ্যক্ষ

ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ইনসেটে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান। ছবি : কালবেলা
ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ইনসেটে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান। ছবি : কালবেলা

পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে পরীক্ষায় বসতে দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ক্ষেতলাল পৌরসভার মালিপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত শিক্ষার্থী নজিবুর রহমান ওরফে বিশাল হত্যা মামলার অন্যতম আসামিও ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান। মামলার পর দীর্ঘদিন তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থী হাসিবুল বাসার আব্দুল্লাহ (১৩) উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের দিনমজুর হাসান আলীর ছেলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষায় বসতে না পেরে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী হাসিবুল। তার ভাষ্য, পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাকে পরীক্ষায় বসতে দেননি।

শিক্ষার্থীর মা লাভলি আক্তার বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। নিয়মিতই স্কুলের বেতন দিই। অভাবের কারণে কিছুদিন বগুড়ায় থাকায় সন্তানকে নানির কাছে রেখে যেতে হয়েছিল। নভেম্বর মাসে পরীক্ষার সময় বাড়িতে এসে সন্তানকে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ১ হাজার ৬২০ টাকা পরীক্ষার ফি দাবি করেন। এত টাকা জোগাড় করতে না পারায় আমার সন্তান পরীক্ষা দিতে পারেনি।

হাসিবুলের সঙ্গে কথা বললে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তে চাই। এই সপ্তম শ্রেণিতেই রেখে দিলে আমি আর পড়াশোনা করব না।

হাসিবুলের দাদি সুফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি নাতিকে নিয়ে বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কমিটির কাছে এক হাজার টাকা দিয়ে হলেও পরীক্ষায় বসানোর অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তাতেও পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান কালবেলাকে বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানে ফি মওকুফের তহবিল রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম। এখন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষার সুযোগ ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবলু কুমার কালবেলাকে বলেন, পরীক্ষার ফি না দেওয়ায় কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি এমন তথ্য এইমাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুব্যবস্থা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খেলতে পারবেন না নেইমার

আর্জেন্টিনা জার্সি পরে চেম্বারে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা আইনজীবীর

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ / ইউক্রেন সহায়তা ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

নওগাঁয় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যেভাবে পড়ে গেল বাস

শুক্রবার কমলো স্বর্ণের দাম, বিশ্ববাজারে আশঙ্কার কারণ কী

দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৬ অঞ্চল

১০

যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার তীব্র যানজট

১১

সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা

১২

মিরপুরের পূরবী মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২ ইউনিট

১৩

আনন্দভ্রমণ শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ বন্ধুর

১৪

দিল্লিতে নিজ ফ্ল্যাটে খুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা, রহস্য ঘনীভূত

১৫

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানাল অধিদপ্তর

১৬

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে

১৭

আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

১৮

আশুলিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

১৯

দিল্লির হোটেলে আগুন দেখে পালান মালিক, গ্রেপ্তারের পর দিলেন স্বীকারোক্তি

২০
X