দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য রয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ার পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার। ঝুলে আছে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের এ প্রক্রিয়াটি। এ ফাঁকে চলমান দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নিয়ে শিক্ষক ও গভর্নিং বডির একটি অংশের মধ্যে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাইদ আনসারী চাকরি থেকে অবসরে যান। মাদ্রাসার প্রশাসনিক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসার অধ্যাপক জিএম সাইফুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেয় পরিচালনা কমিটি। সেই থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রবিধানে উল্লেখ আছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে যোগদানের তিন মাসের মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নীতিমালাতে এ শর্তাবলি আরোপ থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে।
অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হকের বিরুদ্ধে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রবিধানের শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে অধ্যক্ষের শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার কথা থাকলেও তা করেন নাই। তিন মাসের পরিবর্তে পাঁচ মাস ১০ দিন পর অর্থাৎ ১১ আগস্ট অধ্যক্ষের শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে পত্রিকায়। ২৬ আগষ্ট ওই নিয়োগের আবেদনের শেষ দিন ছিল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হক স্বপদে বহাল থেকে প্রবিধানের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে তিনি অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হয়েছেন। যা নীতিমালা পরিপন্থি। নীতিমালা অনুযায়ী তাকে অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হতে হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে তা তিনি করেননি। তবে শূন্যপদের এ নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে করে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
এদিকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। গভর্নিং বডি ও অভিভাবকদের একটি অংশ বলছেন, নীতিমালা অনুসৃত না করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হক স্বপদে বহাল আছেন। মাদ্রাসার সর্বোচ্চ এ পদটি ধরে রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কৌশলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। স্বপদে বহাল থেকে তিনি ও একজন প্রার্থী হয়েছেন। নীতিমালার আলোকে অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হওয়ার পূর্বে স্বপদে থাকা পদবি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। অথচ তিনি এখনো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিভাবক ও গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন।
একটি পক্ষ জানায়, পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদবি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্ট রিটের প্রেক্ষিতে রুল জারি করে। রিট আবেদনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আবু সাইদ আনসারী উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেন। এ দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরেও ওই মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গভর্নিং বডির সদস্য বরইতলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, ভারপ্রাপ্ত পদ নিয়ে প্রশ্ন আছে। যেহেতু অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এরপরও ভারপ্রাপ্ত থাকাটা নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকলে সমস্যা তো থাকবে। আমরা চাই শূন্যপদটি দ্রুত সময়ে পূরণ করা হোক।
পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মুফতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ মাদ্রাসা ১৯৫৬ ইংরেজিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ মাদ্রাসায় ১৩৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে আইনি কিছু জটিলতা আছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ে এসব নিরসন হবে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম সাইফুল হক জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত ছিল। বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন। তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে বহাল আছেন কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে জিএম সাইফুল হক ওই প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং দ্রুত তার মোবাইল ফোনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ ব্যাপারে পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপ্তি চাকমা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অধ্যক্ষ পদ নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলন্ত রয়েছে।
মন্তব্য করুন