দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে ‘তোর খবর পাওনা হয়ে গেল’ বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মুঠোফোনে হুমকি ও গালিগালাজ করেছেন সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জামান লিটন।
ওই আসনে ঈগল মার্কার প্রার্থী কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের সমর্থক উপজেলার জোড়গাছা ইউপি যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি রবিউল ইসলামকে এই হুমকি দেওয়া হয়।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) মুঠোফোনে অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে শুরু হয় সমালোচনা।
মিনহাদুজ্জামান বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাহাদার মান্নানের আপন ভাই।
অডিও রেকর্ডে মিনহাদুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, আগামী ৭ তারিখে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে আর সাহাদারা মান্নানই এমপি হবে শুনে রেখ। ভোট করলে করো না করলে না করো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের খেয়ে, আওয়ামী লীগের পরে ভোট করবি ঈগলের তাই না? এই বলে অকথ্য ভাষায় রবিউলকে গালিগালাজ করেন মিনহাদুজ্জামান।
এরপরে রবিউল বলেন, ভোট অবশ্যই করব। স্বতন্ত্র প্রার্থীও তো আওয়ামী লীগের। দল থেকে তো স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট করার নির্দেশনা দিয়েছে। মিনহাদুজ্জামান আবারও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, স্বতন্ত্র কোনো দিন আওয়ামী লীগ হতে পারে? তোর খবর পাওনা হয়ে গেল।
এ বিষয়ে জানতে জোড়গাছা ইউপি যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি রবিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জামান লিটন বলেন, রবিউলকে আমি তার যোগ্যতা অনুসারে বিনা টাকায় গুড়াঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাইট গার্ডের চাকরি দিয়েছি। উনি সাবেক যুবলীগ নেতা আবার সরকারি কর্মচারী। তিনি কীভাবে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট করতে পারেন? এজন্য তাকে কল দিয়েছিলাম। মুঠোফোনে কথোপকথনের কিছু অংশ তারা বিকৃতভাবে প্রচার করে ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি এমন নয়।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভাই ও একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে যেভাবে হুমকি দিলেন এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে মনে করি। আমি আশা করি, রিটার্নিং অফিসার এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অডিও রেকর্ড শোনার পরে আজ রবিউলের সঙ্গে দেখা করেছি। উনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আর খুবই ভীত হয়ে আছেন।
মন্তব্য করুন