ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলা দেখতে মানুষের ঢল

সকাল থেকে দল বেঁধে শত শত খেলোয়াড় আর দর্শক খেলার কেন্দ্রস্থল তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে আসেন। ছবি : কালবেলা
সকাল থেকে দল বেঁধে শত শত খেলোয়াড় আর দর্শক খেলার কেন্দ্রস্থল তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে আসেন। ছবি : কালবেলা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা ‘হুমগুটি’। বলের মতো দেখতে এক মণ ওজনের পিতলের তৈরি গুটিটি ৩টি ফুটবলের সমান। এই খেলায় নির্দিষ্ট কোনো দল বা রেফারি নেই। যে কেউ যে কোনো জায়গা থেকে দল নিয়ে এসে খেলতে পারে। খেলা শুরুর সময় চারদিক হিসেবে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম থেকে একজন করে মোট চারজন গুটি হাতে নিয়ে বুকের কাছে উঁচিয়ে ধরেন। এরপর ধাক্কাধাক্কিতে চলে খেলা। সেই ‘হুমগুটি’ দখলে নিতে চলতে থাকে হাজারও মানুষের কাড়াকাড়ি। গুটিটি লুকানো পর্যন্ত চলে ব্যতিক্রমী এই খেলা।

ঐতিহ্যবাহী ‘হুমগুটি’ খেলায় ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে রোববার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে দল বেঁধে শত শত খেলোয়াড় আর দর্শক খেলার কেন্দ্রস্থল তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে আসেন। দুপুরে ২৬৫তম এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফুলবাড়িয়ার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক সরকার। এসময় বালিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান পলাশ, খেলার আয়োজক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক মণ ওজনের পিতলের তৈরি গুটিটি তিনটি ফুটবলের সমান।

বিকেল ৩টায় তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামে ধানের পতিত জমিতে খেলোয়াড়দের মাঝে ছেড়ে দিলে ‘হুমগুটি’ নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি। এসময় খেলা দেখতে ঢল নামে মানুষের।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমার বাপদাদারা এই খেলা খেলছে। আমিও ছোটবেলা থেকেই খেলছি। এখন বয়স হয়ে গেছে তাও মন চায়। তাই সবার মাঝে ঢুকে আমিও একটু কাড়াকাড়ি করলাম।

জনশ্রতি আছে, এই খেলার গোড়াপত্তন হয় ২৬৪ বছর আগে। তৎকালীন মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্তের সঙ্গে ত্রিশালের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধ মীমাংসা করতে তেলিগ্রাম বড়ইআটা গ্রামের তালুক-পরগনার সীমানায় এই গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। খেলায় বিজয়ী হয় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর এটি সম্পূর্ণরূপে সাধারণ মানুষের খেলায় পরিণত হয়। যা আজও চালু রেখেছে এই গ্রামের মোড়লরা।

হুমগুটি সারা বছর গ্রামের মোড়লদের তত্ত্বাবধানেই থাকে। কয়েকটি এলাকা মিলে ‘হুমগুটি’ খেলা উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়। খেলা পরিচালনার দায়িত্ব থাকে সেই কমিটির ওপর। পৌষসংক্রান্তির দিনে আয়োজন করা হয় হুমগুটি খেলা।

এই খেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে ফুলবাড়িয়ার আশপাশের এলাকা। খেলাকে উপলক্ষ করেই বাড়িতে বাড়িতে সমাগম ঘটে কাছে আত্মীয়স্বজনদের। প্রতিটি বাড়িতে চলে রান্নাবান্না ও পিঠাপুলির উৎসব। খেলার দিন এলাকার বিভিন্ন স্থানে বসে মেলা। প্যান্ডেল বানিয়ে নাচ-গানের আসর বসায় এলাকার তরুণরা।

‘হুমগুটি’ স্মৃতি সংসদের পরিচালক এবি সিদ্দিক বলেন, ‘হুমগুটি’ খেলার মাধ্যমে দুই জমিদারের জমির পরিমাপ বিরোধ সমাধান হয়েছিল। পূর্ব-পুরুষরা প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিন খেলাটি আয়োজন করেছে, আমরা যুগ যুগ ধরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুমন্ত যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

পলোগ্রাউন্ডে জনস্রোত, মিছিল-স্লোগানে উত্তাল চট্টগ্রাম

যে বয়সের আগেই শিশুকে ৮ শিক্ষা দেওয়া জরুরি

বাকপ্রতিবন্ধী ঝন্টু হোসেনের খোঁজ মিলছে না, উৎকণ্ঠায় পরিবার

মালদ্বীপকে ১৪ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

আগুনে পুড়ে ছাই ১১ বসতঘর

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অফিসে গুলিবর্ষণ-ভাঙচুর

বিশ্বকাপ ইস্যুতে আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিল বিসিবি

শীত নিয়ে ৫ দিনের পূর্বাভাসে যা জানাল আবহাওয়া অফিস

৫ শতাংশ কোটা রেখে নিয়োগ মেধার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত : তারেক রহমান

১০

বড় পর্দায় ফিরছেন নিশো-মেহজাবীন

১১

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমার সন্ধান

১২

কবে মুক্তি পাবে শাহরুখের ‘কিং’?

১৩

বায়ুদূষণে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

১৪

শান্তিচুক্তি থাকা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা 

১৫

বিসিবির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে আইসিসি

১৬

হেনস্তার শিকার মৌনী রায়

১৭

এমবাপ্পের জোড়া গোলে লা লিগার শীর্ষে রিয়াল

১৮

এডাস্ট আইডিয়া স্টোরে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কশপ

১৯

চট্টগ্রামে বিএনপির শক্তি ফিরছে

২০
X