প্রদীপ মোহন্ত ও আবু আব্দুল্লাহ প্রিন্স, বগুড়া
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকাসহ সারাদেশে যাচ্ছে বগুড়ার সাবলা গ্রামের কুমড়াবড়ি

মাচানের ওপর কুমড়ার বড়ি শুকাচ্ছেন এক নারী। ছবি : কালবেলা
মাচানের ওপর কুমড়ার বড়ি শুকাচ্ছেন এক নারী। ছবি : কালবেলা

শীত এলেই খাদ্য তালিকায় যে জনপ্রিয় ও উপাদেয় খাবারের নাম যোগ হয়, তা কোথাও কুমুড়বড়ি কোথাও বা কুমড়াবড়ি নামে পরিচিত। এবার শীতের আগমনী বার্তায় এই জনপ্রিয় খাবারটি তৈরির ধুম পড়েছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাবলা গ্রামজুড়ে। ওই গ্রামের মানুষের দেখাদেখি আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও চলছে কুমড়াবড়ি তৈরির প্রচেষ্টা। মাশকলাই বা মাশের ডাল থেকে শুধু শীতের মৌসুমেই তৈরি হয় এই সুস্বাদু খাবারটি। আর তা বছরজুড়ে সংরক্ষণ করে রাখেন গৃহিণীরা। দেশব্যাপী কুমড়াবড়ির চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সেসব।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর থেকে তালোড়া সড়ক ধরে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলেই সনাতন ধর্মাবলম্বী-অধ্যুষিত গ্রাম সাবলা। শীতের শুরু থেকে শুরু করে পুরো মৌসুমের যেকোনো দিন ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথেই চোখে পড়ে সারি সারি চালা তৈরি করে তার ওপরে শুকাতে দেওয়া হয়েছে কুমড়াবড়ি। আর বাড়ির ভেতরে নারী-পুরুষরা ব্যস্ত বড়ি তৈরিতে।

ওই গ্রামে গিয়ে কথা হয় গৃহবধূ শোভা রানী মোহন্ত, উপলা রানী ও রিমা মোহন্তের সঙ্গে। তারা জানান, মাশের ডালের সঙ্গে পরিপক্ব কুমড়ার রস মিশিয়ে এই বড়ি তৈরি করা হতো ,এ কারণেই এর নাম হয়েছে কুমুড়বড়ি বা কুমড়াবড়ি।

প্রস্তুত প্রণালি সম্পর্কে তারা জানান, বাজার থেকে মাশকালাই কিনে এনে মাড়ানোর পর তা ঝেড়ে নিতে হয়। মাড়ানো মাশের ডাল পানিতে ভেজানো হয় খোসা ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। ভেজা ডালের খোসা ছড়িয়ে নিয়ে তা পাটায় পিষতে হয়। পাটায় পিষে নরম করে তা দিয়ে গোলাকৃতির বড়ি তৈরি করা হয়। সেসব বড়ি পাতলা কাপড়ের ওপর রেখে বাইরের মাচায় রোদে শুকাতে হয়। প্রায় ৩দিন শুকানোর পর তা খাবার উপযোগী হয়।

ওই গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র মোহন্ত, শ্যামল কুমার ও সুরেশ চন্দ্র জানান, সাবলা হিন্দুপাড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীতলা ও বাঁকপাল গ্রামের কিছু লোকও এখনও কুমড়াবড়ি তৈরি করছেন। কুমড়াবড়ি তৈরির পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও বগুড়া শহর, রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধা থেকে উত্তরাঞ্চলের পাইকাররা এবং অনেক সময় ঢাকা থেকেও পাইকার এসে বড়ি কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা ভালো মানের কুমড়াবড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি এবং সাধারণ বড়ি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

তারা জানান, কুমড়ার রসযুক্ত বড়ির দাম বেশি, আর মাশের ডালের সঙ্গে চালের আটা মিশ্রিত সাধারণ মানের বড়ির দাম তুলনামূলক কম। তবে বাজারে সাধারণ বড়ির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

ওই গ্রামে পাইকারি দরে কুমুড়বড়ি কিনতে যাওয়া বগুড়া শহরের পাইকার নাজমুল হোসেন জানান, অন্য কোথাও একই গ্রামের শতাধিক পরিবার কুমড়োবড়ি তৈরি করে না। শীতের মৌসুমে এই গ্রামের মানুষের বড়ি তৈরিই মূল পেশা। এ কারণে সেখানে তারা চাহিদামাফিক এবং সঠিক ওজন ও দামে বড়ি কিনতে পারেন। বগুড়া শহরে ছাড়াও তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কুমড়াবড়ি সরবরাহ করেন বলে জানান নাজমুল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগুনে ঘি ঢালল ভারত, দুঃসংবাদ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের

জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফল প্রকাশ, ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লাড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী দল ঘোষণা

আসুন আমাকে তুলে নিয়ে যান, ট্রাম্পকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

সুন্দরবনের পর্যটনবাহী নৌযান মালিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

টিকিট চাওয়ায় ছাত্র পরিচয়ে টিটিইকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

কুয়াশা ও তীব্র শীতে ক্ষতির মুখে বোরো বীজতলা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

১০

জকসু নির্বাচন:  / সিইসি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্রের ফল প্রকাশ, এগিয়ে ছাত্রশিবির 

১১

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে কী হবে বাংলাদেশের

১২

শীতে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

১৩

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত ২৫, গ্রেপ্তার হাজারের বেশি

১৪

তীব্র শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

১৫

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

১৬

ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা করলেন ট্রাম্প

১৭

জকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএস-এজিএসে এগিয়ে ছাত্রশিবির

১৮

শীতে আপনার সন্তানকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে

১৯

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

২০
X