চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আজও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড চুয়াডাঙ্গায়, বিশ্রাম নিচ্ছেন দুই কৃষক। ছবি : কালবেলা
দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড চুয়াডাঙ্গায়, বিশ্রাম নিচ্ছেন দুই কৃষক। ছবি : কালবেলা

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। জেলায় আজও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে সবজি ক্ষেত। তবে কৃষি বিভাগের কাছে ক্ষতির তথ্য নেই।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার (২৫) এপ্রিল বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ১৪ শতাংশ। যা দেশের সর্বোচ্চ।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, বর্তমানে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, মাঝে একদিন বাদে চুয়াডাঙ্গায় ৫ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আওতায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, আর্দ্রতা বেশি অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জন্য গরমে অস্বস্তি বেড়েছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা কোনোভাবেই কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে চুয়াডাঙ্গায় ক্রমাগত তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে সবজি ক্ষেত পানি (সেচ) দিয়েও রক্ষা করতে পারছেন কৃষকরা। সবজির পাশাপাশি আম-লিচু ও কাঁঠালে গুটি ঝরে যাচ্ছে। তাপপ্রবাহে ক্ষেতের ফসল পুড়লেও সে সব তথ্য নেই কৃষি বিভাগের কাছে। বারং বার এ জেলার ৪টি উপজেলায় সবজির ক্ষতির পরিমাণ জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সরেজমিনে ডিঙ্গেদহের হাটখোলা গ্রামে গেলে সেখানকার কৃষক স্বপন বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে করল্লার আবাদ করেছি। ২-৩ দিন পর পর পানি দিয়েও তা রক্ষা করতে পারছি না। করল্লা গাছ থেকে ঝরে পড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের হারিস মিয়া বলেন, এ তাপদাহে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কচু, পান, তরমুজ ও কাঁচা মরিচের। ঘনঘন সেচ দিয়েও কোনোভাবেই শুকিয়ে যাওয়া থেকে ঠেকানো যাচ্ছে না। তাছাড়া সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপদিত পণ্য বিক্রি নিয়ে আমি শঙ্কিত। কারণ অধিক দামে এগুলো বিক্রি করতে হবে।

একই কথা বলেন, সদর উপজেলার হানুরবাড়াদী গ্রামের কৃষক দোয়াল্লিন। তিনি বলেন, তার ফলন্ত কলা গাছের কাঁদি পড়ে যাচ্ছে, তরমুজের ফল ঝরে যাচ্ছে, বেগুন গাছে বেগুন ধরছে না, কচু গাছ রোদে পুড়ে যাচ্ছে, শসা ক্ষেত তাপপ্রবাহে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দেরিতে লাগানো ভূট্টা ক্ষেতেরও একই দশা। কোনোভাবেই ফসল ধ্বংস ঠেকানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ক্রমাগত সেচ দিয়ে কিছু ফসল ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আর কত টাকা ব্যয় করে সেচ দেয়া যায়।

চুয়াডাঙ্গার হানুড়বাড়াদী গ্রামের আবুল বলেন, তিনি তার ৬ বিঘা জমিতে বিনা-২৫ জাতের ধানের আবাদ করেছে। ধান ভাল হয়েছে। রোদ গরমের কারণে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি নিজের স্যালোমেশিন চালিয়ে সেচ দিচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আশা করছি এ জমি থেকে ১৫০ মণ ধান হবে। মাজরা পোকা না ঠেকাতে পারলে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

একই গ্রামের ধান চাষি আনসার ও খাইরুল বলেন, সরকার নির্ধারিতের চেয়ে বেশি ৩ হাজার টাকা ব্যয় করে বিএডিসির সেচ পাম্প থেকে আমাদের সেচ সুবিধা নিতে হচ্ছে। টাকা খরচ বেশি হলেও ঠিকমত সেচ সেবা পাচ্ছি।

সদর উপজেলার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের আম চাষি ওমর আলী বলেন, আম বাগানে সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। দামুড়হুদা উপজেলার ঈশ্বচন্দ্রপুর গ্রামের লিচু বাগান মালিক রবগুল বলেন, গত বছরও তীব্র খরায় লিচুর ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবারও একই অবস্থা হবে মনে হচ্ছে। বৃষ্টি নেই। গুটি পুষ্ট হচ্ছে না। অনেকাংশে ঝরে যাচ্ছে।

চলমান তাপদাহে ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, অতি তাপবাহের কী কী ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তা আমরা এখনো নিদিষ্ট করতে পারিনি। উপজেলা পর্যায়ে কাজ চলছে। দুএক দিনের মধ্যেই আমরা ফসলের ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারব।

এর আগে বুধবার (২৪ এপ্রিল) ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৯ শতাংশ।

সোমবার (২২ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৯ শতাংশ। রোববার (২১ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস,এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৯ শতাংশ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩২ শতাংশ। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস,ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪২ শতাংশ। বুধবার (১৭ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৭ শতাংশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওরির সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙলেন সারা

জ্যাম বা জায়েদ খান নয়, কষ্ট একটাই আমি ঢাকা-৮ এর ভোটার: ফারিয়ার

চাঁদাবাজ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের জনগণ রুখে দেবে : সাইফুল হক

আমরা বিজয়ী হলেও কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না : ডা. শফিকুর রহমান

প্লাস্টিক চাল কি সত্য নাকি গুজব

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশে ভূমিধস, ২৩ সেনার মৃত্যু

৫ দিনের তাপমাত্রা নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

উত্তরায় তারেক রহমানের জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি আশা মোস্তফা জামানের

কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী রক্ষক নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা 

দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

১০

হাঁটুসমান তুষারে ৭ কিলোমিটার হেঁটে নববধূকে ঘরে তুললেন যুবক

১১

স্ত্রীসহ পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

১২

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুযোগ এই সরকারের নেই : ফাওজুল কবির

১৩

সাবেক এমপির গাড়ি ও সুপার মার্কেটসহ ৬৯৪ শতক জমি জব্দ 

১৪

বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন, পদ হারালেন বিএনপির ৬ নেতা 

১৫

খরচ না পেয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব ছাড়লেন মহিলা দল নেত্রী

১৬

আইসিসির চাপে পিসিবি কোণঠাসা: বয়কটের সম্ভাবনা ক্ষীণ

১৭

বড় পর্দায় ফের একসঙ্গে বিজয়-রাশমিকা

১৮

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের মতো তাণ্ডব চালানোর হুমকি ইরানের

১৯

সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

২০
X