নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় টেপাখরিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তিস্তা বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় কোনোভাবে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুম রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদাপানির সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
অথচ ওই সড়কে রয়েছে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ধর্মীয় উপাসনালয় ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বার্নির ঘাট বিজিবি ক্যাম্প। দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তিস্তা বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধসহ অন্য সবাইকে।
বছরের শুষ্ক মৌসুমে সড়কে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে কাদামাটির ভোগান্তির শিকার হতে হয় পথচারীদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এ এলাকার মানুষের আতংক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটু সমান কাঁদামাটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভ্যান-রিকশা আসে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে চায় না। অনেক সময় কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন আহমেদ বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না। নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাট-বাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে রাস্তার কাদামাটি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কত কাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, এলাকায় প্রচুর কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকেরা সময়মতো কৃষি ফসল বাজারজাত করতে পারে না। ফলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় তাদের। সামান্য বৃষ্টি হতে না হতেই রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কি করে চলাচল করব আমরা তা কিছুই বুঝে উঠতে পারি না।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য লিখন সরকার বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে সর্বসাধারণের দুর্ভোগে পরিণত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে।
টেপাখরিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, স্থানীয় মানুষজনের জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি পাকা করা জরুরি। আমি ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যের কাছে ও উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি। ওনারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শফিউল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি প্রকল্প আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
মন্তব্য করুন