ইউসুফ আলী সৈকত, মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল)
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০৪:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শ্যালিকাকে স্ত্রী ভেবে ১১ মাস সংসার করলেন শাকিল, অতঃপর...

কাবিননামা হাতে মোহাম্মদ শাকিল ও তার বিয়ের একটি খণ্ডচিত্র। ছবি : কালবেলা
কাবিননামা হাতে মোহাম্মদ শাকিল ও তার বিয়ের একটি খণ্ডচিত্র। ছবি : কালবেলা

বিয়ের ১১ মাসের মাথায় তালাকের কাগজ হাতে পান মোহাম্মদ শাকিল। সুখের সংসারে হঠাৎ স্ত্রীর কাছ পক্ষ থেকে তালাকনামা পেয়ে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। আরও বড়সড় ধাক্কা খান যখন দেখেন তালাক তাকে স্ত্রী আয়েশা দেননি, দিয়েছেন তার বড় বোন সুরাইয়া।

অদ্ভুত এমন এক সমস্যায় পড়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার হতে গিয়ে কাবিননামা তুলে দেখতে পান, তিনি আসলে বিয়েটা সুরাইয়াকেই করেছিলেন।

আজব এই ঘটনা ঘটেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে। কাগজে-কলমে যার সঙ্গে শাকিলের বিয়ে হয়েছে, সেই সুরাইয়ার রয়েছে স্বামী ও ২ সন্তান। তাই ভুল শুধরে তাকেও ঘরে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। ওদিকে, সংসার করলেও আয়েশার সঙ্গে তো বিয়েই হয়নি। এমন গোলমেলে পরিস্থিতিতে তালাকের কাগজ গ্রহণ করতে রাজি নন শাকিল।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ শাকিল বলেন, আয়েশাকে বিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তার বদলে বিবাহ সম্পন্ন হয় সুরাইয়ার সঙ্গে। সে সম্পর্কে ‍আমরা জেঠস। তবে ঘর-সংসার করেছি আয়েশার সঙ্গে। আয়েশা আমার সংসার ছেড়ে চলে গেছে। এখন সুরাইয়া আমাকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন। ওরা ইচ্ছাকৃতভাবে জালিয়াতি করেছেন। পরিবারসহ আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে আমি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।

শাকিলের বাবা জয়নাল খান বলেন, বিবাহের সময় কাজীকে যে জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়েছে ওনি তা দেখেই লিখেছেন। আমি ছেলের বউকে তার বাড়ি থেকে কয়েকবার আনতে গেলেও তারা দেয়নি। পরে কাবিননামা তুলে দেখে ছেলের বউয়ের নাম সুরাইয়া লেখা আছে।

কনের মা বিবি হাজেরা বলেন, কাবিনে সুরাইয়া নাম লেখা হয়েছে। যে কাবিননামা করেছেন তার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

আর এ বিষয়ে সুরাইয়া বলেন, আমার সংসারে দুই সন্তান আছে। কাবিন আয়েশার নামে করার কথা থাকলেও তা আমার নামে করা হয়েছে। কাজীর কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, বিষয়টা খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ভুল কিংবা ইচ্ছাকৃত যাই হোক না কেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মেয়ের পরিবারের কারণে। যদিও মেয়ের পরিবার সেটা স্বীকার না করে দোষ চাপাতে চায় কাজীর ঘাড়ে। আর কাজীর বক্তব্য হলো, তাকে যা লিখতে বলা হয়েছে, তিনি তাই লিখেছেন। এখানে তার কোনো দোষ নেই।

মেয়ের মা এবং কাজী পরস্পরের ওপর দোষ চাপালেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের সময় আয়েশার বয়স ১৮ না হওয়ায় কাজীর পরামর্শে বড় মেয়ে সুরাইয়ার জন্মনিবন্ধন দিয়ে ছোট মেয়ের বিয়ে পড়ানো হয়েছে। এতে সায় ছিল পরিবারেরও।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুমার দিন মসজিদে এসে যে ৩ কাজ ভুলেও করবেন না

২৯ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাদের বিচার হতেই হবে : হুম্মাম কাদের

স্বাস্থ্য পরামর্শ / চোখের লাল-জ্বালা: এডেনোভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিসের প্রাদুর্ভাব

ইতালিতে ‘ও লেভেল’ পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য

সাবেক এমপি বুলবুলের পিএস সিকদার লিটন গ্রেপ্তার

টাকা না পেয়ে ফুপুকে গলাকেটে হত্যা করল ভাতিজা

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য বিশেষ কোটা বাতিল 

আন্তর্জাতিক ফেলোশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ছাত্রদলের ঊর্মি

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

১০

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের মায়ের মৃত্যুতে প্রেস ক্লাবের শোক

১১

প্রকৌশলীদের মর্যাদা রক্ষায় আইইবির ৫ দফা দাবি

১২

পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই

১৩

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগপর্বের ড্র অনুষ্ঠিত, রিয়াল-বার্সার প্রতিপক্ষ কারা?

১৪

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ভিডিওটি ভুয়া

১৫

আজীবন থাকা, কাজ ও ব্যবসার সুযোগ দেবে সৌদি, কত টাকা লাগবে

১৬

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১৭

এবার যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের 

১৮

ফিফা কোয়ালিফায়ারে শেষবারের মতো নামছেন মেসি, জানালেন নিজেই

১৯

অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে রেখে স্বাস্থ্যকর্মীর টিকটক, অতঃপর...

২০
X