আতাউর রহমান, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় খেজুর

গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় সুমিষ্ট খেজুর। ছবি : কালবেলা
গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় সুমিষ্ট খেজুর। ছবি : কালবেলা

দেশি খেজুর একটি অত্যধিক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এই ফলে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিনসহ স্বাস্থ্যকর নানা উপাদান বিদ্যমান। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং গাছ থেকে রস বের করার ফলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থেকে দিন দিনই হারিয়ে যাচ্ছে ফলটি। এতে মৌসুমি এ ফলের উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দেশি প্রজাতির মৌসুমি এই ফলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, আয়রন, ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘কে’ সহ স্বাস্থ্যকর বিভিন্ন উপাদান। দেশি এই ফলটি মানবদেহের ঋতু পরিবর্তনকালীন রোগ প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। তা ছাড়া এই ফল মানবদেহের রক্ত উৎপাদনে সহায়ক। হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ও হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে, পাকস্থলী ও যকৃতের শক্তি বাড়াতে এ ফল কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

ফুল শেষে শীতের শেষভাগে খেজুর গাছে ফল ধরে। কাঁচা অবস্থায় খেজুর ফলের রং সবুজ হয়, আর এ ফলটি পরিপক্ব হলে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। তারপর পাকা খেজুরের কাঁদি পানিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ফলটি নরম হয়ে খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরই শীতকালে খেজুর গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করার কারণে অধিকাংশ গাছেই ফল আসেনি। এতে রসের চাহিদা মিটলেও দেখা দিয়েছে দেশীয় খেজুরের সংকট। ফলে দেশি খেজুরের পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিংহভাগ মানুষ।

এ ছাড়াও এই উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী শখ করে এ ফল গাছ রোপণ করলেও গত দেড় দশকে এই গাছ নতুন করে তেমন একটা রোপণ করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। আর এ কারণেই দিন দিন এই গাছ উপজেলার প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, একসময় এই অঞ্চলে মৌসুমি ফল হিসেবে আম, কাঁঠাল, লিচুর মতো দেশি খেজুরেরও একটা আধিপত্য ছিল। দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাওয়া আর অপরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কারণে এ ফলটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। যে কারণে এ অঞ্চলে মৌসুমি ফল হিসেবে দেশি খেজুর সহজলভ্যতা হারাচ্ছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রেয়াসত আলী কালবেলাকে বলেন, এখন দেশি খেজুর চোখে পড়ে না বললেই চলে। খেজুর গাছ কমে গেছে, আর যেসব গাছ আছে সেসব গাছে শীত আসলে খেজুর রসের জন্য গাছ তাড়ি দেয় গাছিরা। এ কারণে এসব গাছে খেজুর উৎপাদন হয় না।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, মৌসুমি ফল হিসেবে একসময় দেশি খেজুরের চাহিদা ছিল, তবে বর্তমান এ ফলটি তেমন একটা দেখা যায় না। অপরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাছ মরে যাওয়া ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ না করায় পুষ্টিগুণে ভরা মৌসুমি এ ফলটি হারাতে বসেছে। এ ফলটি টিকিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শঙ্খজিৎ সমাজপতি কালবেলাকে বলেন, দেশি খেজুর একটি মৌসুমি ফল। এ ফলে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিগুণ রয়েছে। এই ফলে আছে নানাপ্রকার ভিটামিনস ও স্বাস্থ্যকর উপাদান। ফলটিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, সালফার, ফলিক অ্যাসিড, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, সালফারসহ উপকারী নানা উপাদান। তবে বর্তমান সময়ে অন্যান্য মৌসুমি ফলের মতো এই ফলটি সচরাচর চোখে পড়ছে না।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে খেজুর চারা রোপণ করে প্রকৃতিতে এই গাছের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আর যেসব গাছ আছে সেসব গাছের সবগুলো থেকে সমানে খেজুর রস সংগ্রহ না করে কিছু কিছু গাছ ফলের জন্য রাখা উচিত। এতে খেজুর রস ও খেজুর দুটোই পাওয়া যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রথম কর্মদিবস শুরু

‘মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে’ / ছাতাবোমার ঘটনায় মিয়া গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

ব্রিটেনের স্বার্থে প্রয়োজনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেব: অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি

ইরান অবরোধ ভাঙার অভিযোগে তেলবাহী জাহাজ অচল করল মার্কিন বাহিনী

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু ২৭ জুলাই, যেতে পারবে না যারা

সিলেটে বিউটি পালের পাশে শিক্ষক-লেখক ও সাংবাদিকরা

ভাটারার গ্যাস বিস্ফোরণ / স্বামী-ভাগ্নির পর না ফেরার দেশে ফাহিমাও

সিরিয়ায় বাস দুর্ঘটনা, হতাহতদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে প্রেরণ

১০

জুলাই হত্যা মামলা / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার

১১

প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর খুলল তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত

১২

এইচএসসির রসায়ন প্রশ্নে ভুল ছিল কি না জানাল শিক্ষা বোর্ড

১৩

সেনা সদস্যদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৪

আরএসএফকে ছাড় দেবে না সুদানের বাহিনী, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

১৫

কিডনি রোগে আক্রান্ত কিশোরের কাঁধে পাঁচজনের সংসার

১৬

আগামী ৩ দিন বৃষ্টি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৭

ফটিকছড়িতে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

১৮

চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

১৯

৩০ হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন করতে চায় রাশিয়া, দাবি জেলেনস্কির

২০
X