কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:২১ পিএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৫০টি গাছ লাগানোসহ নানা শর্তে আসামির সাজা স্থগিত

গ্রাফিক্স : কালবেলা
গ্রাফিক্স : কালবেলা

ইয়াবার মামলায় দণ্ডিত মো. ইয়াকুব আজাদ নামে এক আসামির সাজা স্থগিত করে পবিত্র আল কোরআনের সুরা বাকারা, মায়েদা এবং নিছা ভালো করে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০টি গাছ লাগাতে এবং মাদ্রাসায় ভালোমানের কিছু ধর্মীয় বই উপহার দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (৫ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মঞ্জুরুল ইমামের আদালত মামলার সাজা স্থগিত করে এ আদেশ দেন। ওই আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর বিপুল চন্দ্র দেবনাথ এ রায়ের তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আপিল শুনানিতে আইনজীবী জায়েদুর রহমানের মাধ্যমে আসামি প্রবেশন আইন অনুযায়ী দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শুনানিকালে কাঠগড়ায় থাকা আসামির নিকট বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, আপনার (আসামি) ছেলেমেয়ে আছে? জবাবে আসামি জানান, এক ছেলে মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ে, আর মেয়ে ছোট। তখন বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ঘর পবিত্র করার জন্য ছেলেকে হাফেজি পড়াচ্ছেন, সে আপনার জন্য দোয়া করবে, মরে গেলে জানাজা পড়াবে, আর আপনি ইয়াবা মামলার আসামি। এরপর বিচারক বলেন, আপনি কী পড়ালেখা করেছেন? তখন আসামি বলেন, আমি মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছি। এরপর বিচারক বলেন, ছেলে মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ে, আপনি মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস। কেন ইয়াবার মামলার আসামি হলেন? তখন আসামি বলেন, স্যার আমাকে ইয়াবা দিয়ে মামলা দিয়েছে। এরপর বিচারক বলেন, পবিত্র কোরআনের কোন সুরায় মাদক সম্পর্কে বলা আছে জানান। সুরা বাকারা, মায়েদা ও নিছা ভালো করে পড়বেন। এর মধ্যে পাবেন মাদক সম্পর্কে বলা কথা আছে। এরপর বিচারক বলেন, আর আপনার সাজা স্থগিত করা হলো। আর প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধায়নে থেকে আপনি (আসামি) ৫০টি গাছ লাগাবেন, পবিত্র আল কোরআনের সুরা বাকারা, মায়েদা, নিছা ভালো করে পড়বেন এবং আপনার ছেলে যে মাদ্রাসায় পড়ে সে মাদ্রাসায় ভালোমানের কিছু বই উপহার দেবেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৩ নভেম্বর শাহবাগ থানাধীন হোটেল আপ্যায়নের পূর্বপাশ থেকে মো. ইয়াকুব আজাদ পাঁচ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়। ওইদিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর এস এম এলতাস উদ্দিন ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদ তালুকদার। রায়ের পর আসামি পরোয়ানামূলে ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয় এবং ২ নভেম্বর তিনি জামিন পেয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল দায়ের করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, আবেদন করুন এখনই

স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা, ব্রাজিল সমর্থক আটক

নিজের মতো চলছে ইসরায়েল, ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুকে সামলাতে পারবেন

ইবনে সিনায় চাকরির সুযোগ, দ্রুত আবেদন করুন

৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল

ডিগ্রি নয়, মানুষ হওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য: সাঈদ আল নোমান

জাপানের গোল উৎসবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল তিউনিসিয়া

মাঠে নামছে ৩২ বিশ্ববিদ্যালয় / ২৮ জুন শুরু হচ্ছে ‘আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল’

এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যুতে কেন্দ্রসচিবদের নিয়ে বসছেন শিক্ষামন্ত্রী

সৌদিতে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৫ হাজার

১০

বেফাঁস মন্তব্যের জেরে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার

১১

ইসলামে পিতার সম্মান

১২

সন্তানের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স দেখতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ভোজেনিয়ার মা

১৩

ইরানের তেল খাতই হবে চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

১৪

বাবা নেই, তবুও প্রতিদিন আছেন

১৫

উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বাড়ছে

১৬

সুখবর দিলেন সামান্থা

১৭

কুমারখালী-খোকসায় থাকতে হলে বিএনপি নেতাদের কথা শুনতে হবে: পুলিশকে এমপি ফরিদা

১৮

বাংলাদেশের কাছেও ৭ গোল খেয়েছিল ব্রাজিল!

১৯

পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফেরত দিলেন জেলেনস্কি

২০
X