সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৩, ০৯:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রাহকের টাকা মেরে ওমরা পালনে এমটিএফইর দুই পরিচালক

ওমরা পালনে এমটিএফইর দুই পরিচালক। ছবি : কালবেলা
ওমরা পালনে এমটিএফইর দুই পরিচালক। ছবি : কালবেলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আলোচিত অনলাইন বিনিয়োগ প্লাটর্ফম ‘এমটিএফই’ অ্যাপে গ্রাহকের বিনিয়োগের শত কোটি টাকা মেরে ওমরা পালনে সৌদি আবার গেছেন মিজানুর রহমান ও মাসুম আলী নামে প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক। মিজানুর কুষ্টিয়ার এমটিএফইর প্রধান সিইও পদে ছিলেন। তার পরের স্থান মাসুম আলীর।

এদিকে পরিচালকদের ওমরা পালনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের তথ্যমতে, কুমারখালীসহ জেলার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার গ্রাহক ৮ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। গত শুক্রবার থেকে এমটিএফইর সব কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমারখালী উপজেলার দুই হাজার মানুষ প্রায় শতকোটি টাকা খুইয়েছেন। এই অ্যাপে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ড্রাইভার, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিনিয়োগকারী করেছেন। বিপুল লভ্যাংশের মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি হবার আশায় টাকা জমা দেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিঙ্গার প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অফিস নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন মাসুম ও মিজান। এই দুজনের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মানুষ বিনিয়োগ করেছিল।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, কুমারখালী ‘এমটিএফই’ এর মূল হোতা পৌরসভার বাটিকামারা মধ্যপাড়ার মসলেম উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান। তিনি স্থানীয় ফেমাস ফুলকুঁড়ি বিদ্যালয়ের পরিচালক পদে আছেন। আর তার সহকারী ছিলেন পৌরসভার ঝাওতলা এলাকার তোফাজ্জেলের ছেলে সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মো. মাসুম আলী। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের আইটি সেক্টরে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে এসে ‘এমটিএফই’ এর ব্যবসার সাথে যুক্ত হন।

গত ১১ আগস্ট মিজানুর ও মাসুম সৌদি আরবে ওমরা পালন করতে যান। তারপর থেকে শুরু হয় অ্যাপটিতে বিভিন্ন সমস্যা। সাথে গ্রাহকদের কমিশনও কমে যায়। এরপর গত ১৮ আগস্ট থেকে অ্যাপসটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী সিইও মিজানুর রহমানের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী সুমী খাতুন জানান, মিজানুর ওমরা করতে গেছেন। তিনি এসব বিষয়ে কোনোভাবেই কথা বলবেন না। মিজানুর আসলে তার সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।

কুমারখালী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় আরেক সিইও মাসুম আলীর সাথে বাড়িতে গেলে তার মা রেখা খাতুন বলেন, আমার ছেলে ওমরাহ করতে গেছে। আগে পুলিশের চাকরি করত। পরে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করে। তিনি নিজেও এতে টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি এই সম্পর্কে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৩ জনকে বাঁচিয়ে পানিতে তলিয়ে গেলেন হাসান, শেষ ফোনকলে ছিল মাকে দেখার ইচ্ছা

খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন ইশরাক

‘মা-ভাই-বোনকে প্লট দিতে খালা হাসিনাকে চাপ দেন টিউলিপ’

প্লট দুর্নীতি / শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার রেহানা-টিউলিপের রায় সোমবার

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন সোমবার

বিএমইউ ‘ছাত্র কল্যাণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

জাতির ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি : ব্যারিস্টার অসীম

ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের টিম গঠন

মশক নিধনে ৫৬ স্প্রেম্যানকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিল চসিক

চট্টগ্রামে মাস্টার ইন্সট্রাক্টর প্রশিক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

১০

জামায়াত বরাবরই বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : কাজী আলাউদ্দিন

১১

ব্রাকসু নির্বাচন / প্রথম দিনে ৭ জনের মনোনয়ন সংগ্রহ, ছাত্রী হলে নেননি কেউ

১২

বগুড়ায় হাসিনাসহ ২৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১৩

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা দেবে : মাসুদ সাঈদী

১৪

৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি

১৫

সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২১ হাজার প্রবাসী গ্রেপ্তার

১৬

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সিংড়ায় বিশেষ দোয়া মাহফিল

১৭

রাজশাহীকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়তে চাই : আরএমপি কমিশনার

১৮

চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু, আইনি সেবা মিলবে ঘরে বসেই

১৯

ছয় লেনের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবরোধ

২০
X