কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৩, ০২:০৫ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ০২:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিরিজ বোমা হামলা

পরিচয় লুকিয়ে টিভিতে কাজ করতেন জঙ্গি তুহিন

গ্রেপ্তার তুহিন রেজা। ছবি : কালবেলা
গ্রেপ্তার তুহিন রেজা। ছবি : কালবেলা

দেশজুড়ে বোমা হামলা মামলায় ঝিনাইদহের যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া জেএমবি সদস্য তুহিন রেজা ঢাকায় একটি টিভি চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন। সাজা এড়াতে পরিচয় লুকিয়ে বেসরকারি চ্যানেলটির ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রাতে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর এ ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সাজাপ্রাপ্ত এ আসামিকে ১৮ বছর পর গ্রেপ্তার করল র‍্যাব।

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর ৩৪টি স্থানসহ ৪৫০টি স্পটে প্রায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ বাদে রাজধানী ঢাকাসহ ৬৩টি জেলা এ হামলা করা হয়। রাজধানীর হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, সচিবালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেস ক্লাব ও সরকারি-আধাসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় এ বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এ সিরিজ বোমা হামলায় দুজন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়। একযোগে এ হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে নিজেদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতির জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল জেএমবির সদস্যরা।

র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক আরও বলেন, সিরিজ বোমা হামলায় সারা দেশের মতো ঝিনাইদহ জেলার ডিসি অফিস, জজকোর্ট, পায়রা বন্দরসহ কয়েকটি এলাকায় একই সময়ে একযোগে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ঝিনাইদহ কর্তৃক বিচার শেষে অভিযুক্ত ২১ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হলে আসামিদের সকলকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। কিন্তু আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে আদালত তাদের অভিযোগপত্র পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয় এবং সাতজন আসামিকে খালাস দেয়।

পরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা চালানো শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত ১৪ আসামির মধ্যে ১২ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক দুজনের মধ্যে ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে পলাতক জেএমবির সদস্য তুহিন রেজাকে বৃহস্পতিবার রাতে তেজগাঁও রেলগেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৭ নম্বর আসামি মোহন এখনো পলাতক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ঝিনাইদহ শহরে ডিসি অফিস, জেলা জজ আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল, কলেজ মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে একযোগে বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর কার্যক্রম চালায় জেএমবি। একযোগে হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে নিজেদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতির ঘোষণা করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। গ্রেপ্তার তুহিন ২০০৪ সালে জেএমবির ঝিনাইদহ সদর শাখায় সদস্য হিসেবে যোগদান দেন। যোগদানের পর থেকে সে এই শাখার লিফলেট তৈরি, লিখিত প্রচার-প্রচারণার সম্পাদনা, গোপন ও নাশকতমূলক খবরাখবর আদান-প্রদান, বিভিন্ন ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তিমূলক প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে তরুণদের পথভ্রষ্ট করত।

তিনি বলেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হামলাকে কেন্দ্র করে পূর্ববর্তী দীর্ঘ সময় ধরে তারা হামলার নীলনকশা সাজায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ আগস্ট ভোর থেকেই অন্য হামলাকারীদের সঙ্গে তুহিন আদালত চত্বরের আশপাশে অবস্থান নেয় এবং হামলার সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এলোপাতাড়ি বোমা হামলার পর তারা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তুহিন ১৭ আগস্ট বোমা হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে ঝিনাইদহ সদরে জঙ্গি ক্যাম্পে কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে কিছুদিনের মধ্যে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে। এখানে সে প্রথমে যাত্রাবাড়ী, পরে খিলগাঁও, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করে বসবাস করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে সে বিভিন্ন সময় বাসা পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাস শুরু করে। ২০২১ সাল থেকে সে তেজগাঁও এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে এবং সেখান থেকেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পলাতক অবস্থায় সে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিডিও এডিটিংসহ বিভিন্ন সফট্ওয়্যার ভিত্তিক কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তুমি শুধু পরিবারের না, বাংলাদেশের গর্ব : তারেক রহমান

চরম জনবল সংকটে আশাশুনি হাসপাতাল

ইরানে নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে

অনিশ্চয়তায় বিপিএলের সূচনা, সময়মতো শুরু হচ্ছে না দিনের প্রথম ম্যাচ

ফের অবরোধ ঢাকার তিন স্থান

পাকিস্তান–বংশোদ্ভূতদের পর এবার ভিসা সংকটে ইংল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার

সম্পত্তির দৌড়ে দিশার চেয়ে কতটা পিছিয়ে প্রেমিক তালবিন্দর!

বিটিসিএলের তিন কর্তাসহ ৫ জনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটক, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১০

পটুয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের আগুন

১১

ইসলামী আন্দোলন নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা

১২

সরাসরি এলপি গ্যাস আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

১৩

ঢাকায় স্মার্ট মিটার সিস্টেম (এসডব্লিউএম) পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

১৪

প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেট দল গঠন করেই চ্যাম্পিয়ন চবি

১৫

শেরাটনে জড়ো হচ্ছে ৬ দলের ক্রিকেটাররা, দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলন

১৬

সেই পরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিসিবি

১৭

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক সন্ধ্যায়

১৮

ভাতে মারার চেষ্টা করা হয়েছে: অভিষেক

১৯

নির্বাচনী ব্যয় বড় আকারে বাড়ছে

২০
X