সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ আগস্ট আইন বিভাগে হাতাহাতির ঘটনার পর এবার ফার্মেসি বিভাগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও তা নির্বাচনী প্রচারণা নয় বলে অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, রোববার (২৪ আগস্ট) ফার্মেসি বিভাগে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ সভার জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরে অনুষ্ঠানের ভিডিও নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থী, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী খন্দকার আব্দুর রহিম।
নির্বাচনী আচরণবিধির ধারা ৫ (খ) অনুয়ায়ী, সভার দিন, সময় ও স্থান সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। পরের ধারায় বলা হয়েছে, সভার জন্য অন্তত ২৪ ঘণ্টা পূর্বে স্থান এবং সময় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কিন্তু এ সভার ক্ষেত্রে যার কোনোটিই মানা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এ সভাকে নির্বাচনী সভা মানতে নারাজ। তিনি জানান, আমি ফার্মেসি বিভাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। সে হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেছি। এটা কোনো নির্বাচনী প্রচারণা ছিল না। শুধু শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্র সংসদ কী, কেন এবং এ বিষয়ে আমি বিভাগের কাছে ইচ্ছা, মতামত প্রকাশ করেছি মাত্র, অন্য কিছু না।
সভার অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। ফলে একজন প্রার্থীর এমন সভাকে অনেকেই সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
সভার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করে বলেন, ‘সবার জন্য সমান নিয়ম থাকার কথা। অথচ একজন প্রার্থী যদি মিটিংয়ের ভিডিও রিলস বানিয়ে প্রচারণা চালায়, তাহলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
তাদের ভাষ্যমতে, নির্বাচনকালীন সময়ে ছাত্র সংসদ নিয়ে আয়োজিত এ সভাকে নির্বাচনী প্রচারণা বহির্ভূত বলার সুযোগ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফার্মেসির পাশাপাশি মেডিকেল ফিজিক্স, ভেটেরিনারিসহ বিভিন্ন বিভাগে এ ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ২১ আগস্ট আচরণবিধি প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত কোনো সভা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু রায়হান।
এ ছাড়া সভার বাইরেও প্রার্থী কর্তৃক ভোটারদের খাবার, অর্থ প্রদানের অভিযোগও উঠেছে।
সর্বশেষ, গত ১৯ আগস্ট আইন বিভাগে একক প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ডাকা সভায় মতবিরোধের ফলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন গকসু নিয়ে এ ধরনের সভা মারাত্মকভাবে নিয়মের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক রফিকুল আলম।
সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ড. মো. ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির উপর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ এলে সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী উক্ত অভিযোগের ব্যবস্থা নেবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪৬৯৪ জন।
মন্তব্য করুন