বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীন ‘ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব-স্মার্ট ইউনিবেটরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি স্মার্ট কার্ড পাঞ্চ করে এ ইনোভেশন হাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
পরে একই স্থানে আয়োজিত দ্বিতীয় অংশের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইনোভেশন হাবের নামফলক উন্মোচন এবং বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশ যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে, তাতে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর এটি গড়ে তুলতে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে অনেক প্রযুক্তি সামনে এসেছে, এগুলোর সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের যে বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আমরা কীভাবে গড়ে তুলব সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা মানি আর না মানি পরিবর্তন হচ্ছে, পরিবর্তন হবে। এর সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিতে না পারলে পিছিয়ে পড়ব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ১০ লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ১০ লাখ আইডিয়াও বের হচ্ছে। এই আইডিয়া কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এই আইডিয়া প্রাকটিক্যালভাবে জেনারেট করতে যে পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম প্রয়োজন তা পাওয়া যাবে ইনোভেশন হাবে।’
স্কাইপির উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব তাদের রিসার্চ ফাইন্ডিংস বা থিসিস নিয়ে আসছে মানুষের কল্যাণের জন্য। অথচ আমরা আমাদের রিসার্চ ফাইন্ডিংস বা থিসিস নিয়ে বেশি এগোতে পারি না। বাঙালিদের মধ্যে যে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম যেসব গবেষণা করে তাদের প্রজেক্টের পর থেকে সেই গবেষণাগুলো কাগজ-কলমে পাবলিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের কল্যাণে যদি নিয়ে আসতে পারি তা হবে একেবারেই যথার্থ।’
প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘ইনোভেশন হাব সবার জন্য। আইডিয়া জেনারেট করার জন্য একসময় শুধু বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে ভাবা হতো। কিন্তু এখন এর সঙ্গে কলা ও মানবিক এসেছে। শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথমেটিক্স এবং টেকনোলজি দিয়ে হবে না। এখন আইডিয়া জেনারেট করতে দর্শন ও মানবিকতার প্রয়োজন রয়েছে।’
প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন হাব স্থাপন অত্যন্ত কার্যকর হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মাল্টি ডিসিপ্লিনারি যে গ্রাজুয়েটরা রয়েছেন তাদের লেখাপড়ার ব্যপ্তি, দর্শন সম্মিলিতভাবে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের নতুন নতুন মাত্রা নিয়ে আসবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা এবং ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন ইনোভেশন হাবের ফোকাল পারসন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. রামেশ্বর দেবনাথ।
প্রকল্পের পরিচিতিসহ হাবের সার্বিক উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ওই প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট স্বাতী শারমিন।
সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টার্টআপ খুলনার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী হাসান।
সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. কামরুল হাসান তালুকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর সেহরীশ খান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধানসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এ অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন