কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ার কারণ জেনে নিন

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঘুম থেকে উঠে দেখলেন শিশুর চোখ ভিজে গেছে, পাশে পিচুটি জমে আছে কিংবা চোখটা লাল হয়ে ফুলে আছে? এমন হলে যে কেউ চিন্তিত হয়ে পড়েন।

অনেক সময় আশপাশের মানুষ নানা রকম কথা বলেন—কেউ বলেন ‘বাতাস লেগেছে’, কেউ বলেন ‘বুকের দুধ চোখে চলে গেছে’, আবার কেউ বলেন ‘আঁতুড় মানা হয়নি’! কিন্তু এসব কুসংস্কার নয়, এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

আরও পড়ুন : রাতে না খেলে কমবে ওজন! জানুন পুষ্টিবিদের মত

আরও পড়ুন : ভাতের সঙ্গে কাঁচামরিচ খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জানালেন পুষ্টিবিদ

চলুন, চোখের বিশেষজ্ঞ আহসান কবিরের কাছ থেকে জেনে নিই, শিশুদের চোখ দিয়ে পানি পড়ার আসল কারণ এবং এর সহজ সমাধান।

শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?

চোখের পাশে একটা ছোট গ্রন্থি থাকে, যেখান থেকে পানি তৈরি হয়। এই পানি পলক ফেললে পুরো চোখ ভিজিয়ে দেয় এবং পরে একটা সরু পথ দিয়ে নাকের ভেতর দিয়ে বের হয়ে যায়।

কিন্তু নবজাতক বা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পানি যাওয়ার রাস্তাটা অনেক সময় পুরোপুরি খোলা থাকে না। তখন পানি চোখে জমে থাকে, আর সেখান থেকে তা বাইরে পড়ে। এই সমস্যা দেখা যায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিশুদের মধ্যে।

চোখে জমে থাকা পানি যদি বাইরের জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, তখন পিচুটি, লালচে ভাব, এমনকি চোখ ফোলা-এর মতো সমস্যাও হতে পারে।

কী করবেন এই অবস্থায়?

চোখের এই ধরনের সমস্যা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছু যত্ন নেওয়া জরুরি:

- চোখের কোণে হালকা ম্যাসাজ করুন – দিনে কয়েকবার আঙুল দিয়ে খুব নরমভাবে

- চোখ ও নাক পরিষ্কার রাখুন – জীবাণু যেন জমে না

- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করুন – প্রয়োজনে চোখে ওষুধ দিতে হতে পারে

- সাধারণত ৯-১০ মাস বয়সে এই পথ খুলে যায়, তাই সময় দিন

কখন দুশ্চিন্তা করবেন

আহসান কবির জানিয়েছেন, সবসময়ই যে এই সমস্যা চোখের পথ বন্ধ থাকার কারণে হয়, তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে চোখের ভেতরে সংক্রমণ, কর্নিয়াতে ঘা, চোখ ওঠা, গ্লুকোমা বা অ্যালার্জির কারণেও পানি পড়তে পারে।

আরও পড়ুন : ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে চাইলে এখনই বদল আনুন জীবনধারায়

আরও পড়ুন : বারবার খাবার গরম করা নিয়ে যা বলছেন পুষ্টিবিদ

তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ সময়ই এগুলো সাময়িক সমস্যা হিসেবেই থাকে। শিশুর চোখ অমূল্য সম্পদ। একটু সচেতনতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা—এই তিনটিই হতে পারে শিশুর চোখের সুস্থতার চাবিকাঠি।

আর যদি চোখের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়ে পড়ে, তাহলে দেরি না করে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

১০

ভারতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার ক্লার্ক

১১

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুখবর, দলে যোগ দিলেন মেসি

১২

দুই হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমা করলেন মোজতবা খামেনি

১৩

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘গোপন অস্ত্র’ হতে পারেন থিয়াগো

১৪

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মিলেমিশে একাকার

১৫

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ, জবাব দিল আজারবাইজান

১৬

৬০০ ফুট পতাকা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

১৭

বিয়ের পর জীবনসঙ্গী নিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট

১৮

পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

১৯

আইইউবিএটির সামার ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন

২০
X