কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কালাজ্বর নির্মূলে সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের যাত্রা শুরু

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স কার্যক্রমের উদ্বোধন। ছবি : কালবেলা
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স কার্যক্রমের উদ্বোধন। ছবি : কালবেলা

কালাজ্বর বিশ্বময় একটি অবহেলিত রোগ। তবে সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কালাজ্বর রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় কালাজ্বর নির্মূলে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি ড্রাগস ফর নেগলেকটেড ডিজিজ ইনিশিয়েটিভের যৌথ অংশীদারত্বে এই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা কালাজ্বর নির্মূলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সেন্টারের মাধ্যমে সকল রেফারেল কেন্দ্র ও চিকিৎসা কেন্দ্র দ্বারা রেফার করা রোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। এ ছাড়াও কালাজ্বর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা জ্ঞান, দক্ষতা সংরক্ষণ ও অগ্রসর করবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার ১০০টি উপজেলা কালাজ্বর প্রবণ। এসব এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মানুষ কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের কৌশলগত কাঠামো অনুসরণ করে জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। পরে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কালাজ্বর রোগের সংক্রমণ কমিয়ে এনেছে। এমনকি ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি উপজেলা পর্যায়ে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ১ জনের কম রোগী এই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমেরিটাস অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্বব্যাপী কালাজ্বর একটি নেগলেকটেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। তবে এই কালাজ্বরকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সময়মত চিকিৎসা না হলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কালাজ্বর রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, ষাটের দশকে এই কালাজ্বরের চিকিৎসা হতো ব্রহ্মচারী ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে। এখন সারা দেশেই উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে। কালাজ্বর নির্মূলে শুধু চিকিৎসাই নয়, প্রিভেনশকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নারী মশার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমক রোগ ছড়ায়। ডেঙ্গু, কালাজ্বর, চিকনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সবার আগে আমাদের মশা মারার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কালাজ্বর ছাড়াও অন্যান্য আরও কিছু সংক্রামক ব্যাধিগুলো বাড়ছে। আমাদেরকে সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে।

আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, কালাজ্বর সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্সের মাধ্যমে কালাজ্বর নির্মূলে দেশে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। আমি আমার অবস্থান থেকে আপনাদের যতো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি চেষ্টা করব। এ সময় কালাজ্বরসহ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পানার প্রস্তাবনা প্রণয়ণের অনুরোধ করেন এবং প্রস্তাবনটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ মহলে কথা বলবেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের এনপিও ডা. সাবেরা সুলতানা বলেন, কালাজ্বর প্রোগ্রাম ও সেন্টার ফর এক্সিলেন্সকে সার্বিক সহায়তা করে যাবে। এ সময় কালাজ্বর অধ্যুষিত এলাকা ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গে দিনাজপুর, রংপুর জোনে আরও ‍দুইটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিএনডিআইয়ের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ডা. কবিতা সিং ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শখার পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান প্রমুখ।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে নতুন সংশোধনী বিল লোকসভায়, বিরোধীদের হট্টগোল

পেস্টের রাসায়নিক এড়াতে চান? দাঁতের সুরক্ষায় ফিরুন মিসওয়াকে

হাম উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

পিরলো কি কোচ হচ্ছেন ইতালির? স্পষ্ট করলেন নিজেই

ঢাকায় ‘অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন এক্সপো’র তারিখ ঘোষণা 

তথ্যের প্রবাহ থেকে অপতথ্য ফিল্টারিং করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

হাতিয়ায় প্রথমবার অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগে বাঁচল শিশুর প্রাণ

যুবদল নেতা হত্যায় ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা 

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে ইরান: মার্কিন বিশ্লেষক

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু

১০

নকল সরবরাহের দায়ে শিক্ষকের কারাদণ্ড, ৫ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

১১

আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাসের সংকট কমবে, জানালেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১২

ফাইনালের ৭ দিন পর নীরবতা ভেঙে আবেগমাখা চিঠিতে যা লিখলেন স্কালোনি

১৩

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি গঠন

১৪

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

১৫

২০২৭ সালের হজে যেতে পারবেন না যারা

১৬

জুলাই ব্যর্থ হলে ‘শেখরাজ্য’ প্রতিষ্ঠা হতো বাংলাদেশে: মঞ্জু

১৭

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংকটের খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

১৮

মালদ্বীপকে ২০ হাজার গাছের চারা উপহার দিচ্ছে বাংলাদেশ

১৯

ডিউটিরত অবস্থায় পায়রা সেতুর টোল কালেক্টরের মৃত্যু

২০
X