

অনেক সময় আমরা জানি না যে, ঘরের ভেতরের বাতাসে কত ধরনের দূষণকারী উপাদান ভেসে বেড়ায়। ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুগন্ধি পণ্যও বাতাসে অদৃশ্য রাসায়নিক ছাড়ে। শিশু ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফ্রেশ গন্ধ আসলে কোনো প্রকৃত গন্ধ নয়। যদি গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে বাতাসে রাসায়নিক আছে যা নাক পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভালো বা খারাপ—সবই দূষণ।
রাস্তার যানবাহন থেকে নিট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, ঘরের আর্দ্রতা বা দেয়ালের সমস্যা থেকে ছত্রাক, এমনকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পণ্যও ঘরের বাতাস দূষিত করে। HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার কিছুটা সাহায্য করতে পারে, তবে দাম ও চলানোর খরচ অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়।
গাছের পাতা কার্বন ডাইঅক্সাইড ও দূষণ শোষণ করে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি ও মাইক্রোবায়োম অনেক বেশি দূষণ শোষণ করে, গাছের চেয়ে। ১৯৮৯ সালের NASA গবেষণায় বলা হয়েছিল, গাছ ফর্মালডিহাইড ও ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (VOCs) দূষণ কমাতে পারে। বাস্তবে এত বড় পরিমাণে গাছ লাগানো সম্ভব নয়। তাই শুধু পাত্রে রাখা গাছের ওপর নির্ভর করে বাতাস শুদ্ধ করা কঠিন।
কিছু গবেষক সাধারণ পাত্রে রাখা গাছের বদলে লিভিং গ্রিন ওয়াল ব্যবহার করছেন। এতে বেশি গাছ একত্রে রাখা যায় এবং বাতাসের প্রবাহের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে শুদ্ধ করা যায়। গ্রিন ওয়ালে বাতাস মূলত গাছের মূলের মধ্য দিয়ে চলে যায়, যা সাধারণ পাত্রে রাখা গাছের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। তবে গ্রিন ওয়াল তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল।
২০১৫ সালে লন্ডনের একটি অফিসে ‘গ্রিন ল্যাব’ নামে একটি কক্ষ গাছ দিয়ে ভরা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, গাছ কতটা বাতাসের মান উন্নয়ন করতে পারে তা দেখা। দেখা গেছে, গাছের প্রভাব যন্ত্রচালিত ভেন্টিলেশন এবং এয়ার পিউরিফায়ারের তুলনায় কম। কিছু গাছ যেমন স্নেক প্ল্যান্ট দিনে ও রাতে অক্সিজেন তৈরি করতে পারে, তবে প্রভাব সীমিত। বহিরাগত বাতাস খোলার মাধ্যমে দূষণ কমানোও সবসময় কাজ করে না, বিশেষ করে শহরের ঘনবসতি এলাকায়।
নতুন প্রযুক্তিতে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত পথোস গাছ তৈরি করা হয়েছে, যা চ্লোরোফর্ম ও বেনজিন দূষণ কমাতে সক্ষম। Neoplants কোম্পানি কিছু VOC পুনর্ব্যবহারের ক্ষমতা যুক্ত করেছে এবং মাটির ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে দূষণ ভাঙে। তবু শুধু গাছের ওপর নির্ভর করে বাতাস শুদ্ধ করা সম্ভব নয়।
ঘরের গাছ মানসিক শান্তি, সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। WELL বিল্ডিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ঘরের এক শতাংশ এলাকা গাছ দ্বারা ঢাকা থাকতে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। গাছ একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে, যা মানুষকে মানসিকভাবে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ঘরের গাছ বাতাসকে পুরোপুরি শুদ্ধ করতে পারে না। তবে তারা ঘরকে সুন্দর, শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ দেয়।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন