কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সম্পদের পাহাড়-সনদ জাল

গৃহায়নের দেলোয়ারকে পুলিশে দিল মন্ত্রণালয় 

ছবি : দেলোয়ার হোসেন
ছবি : দেলোয়ার হোসেন

জাল সনদে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে (জাগৃক) উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন। হয়েছেন শতশত কোটি টাকার মালিক। অবৈধ সম্পদ ও জাল সনদ খুঁজতে তদন্ত কমিটি করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে মন্ত্রণালয়। পরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৃহায়ন সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন।

তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। সে বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) মন্ত্রণালয়ে শুনানি করা হয়। তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি দেলোয়ারকে জাগৃকের প্রধান কার্যালয় থেকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে।

সচিব আরও বলেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখা, ফাইল গায়েব করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এবং বিদেশে বাড়ি করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি যেন বিদেশে যেতে না পারেন সে বিষয়ে আমরা ইমিগ্রেশনকে চিঠি লিখেছি।

আরও পড়ুন : ঠিকাদারে নাস্তানাবুদ গৃহায়ন

জাগৃক সূত্র জানায়, পদে ছোট হলেও জাগৃকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের মতো ক্ষমতাবান হিসেবে পরিচিত তিনি। গৃহায়ন ভবনে বিশাল আকারের রুমে বসে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাটের সব কাজ করেন দেলোয়ার। নিজে উচ্চমান সহকারী হলেও নিজের কাজ দাপ্তরিক কাজ করতে তার রয়েছে একাধিক লোক। নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী, মা ও শ্যালকের নামে সংস্থাটি থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কমপক্ষে ১০টি প্লট ও ফ্ল্যাট।

মোহাম্মদপর-ধানমণ্ডি এলাকার দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াও নিজের কব্জায় নিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়েছেন একাধিক প্লট। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন দেলোয়ার। ২০১৭ সালের শেষদিকে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে জাগৃকের কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

মঙ্গলবার আটকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার কোনো সম্পত্তিই নেই। সব অভিযোগ মিথ্যা।

আপনি অনিয়ম করে অনেক টাকার পাহাড় গড়েছেন এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার নামে কেউ কোনো ডকুমেন্টস বা অভিযোগ দিয়েছে? দেয়নি।

কেন আটক করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, সচিব (গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব) স্যারকে জিজ্ঞেস করেন। আমার কিচ্ছু নেই। সবই ভিত্তিহীন, সবই মিথ্যা। সবকিছু মিথ্যা। কোনো লিখিত অভিযোগ কি আছে আমার বিরুদ্ধে? আমি এরকম কোনো কিছু করিনি।

আপনার সার্টিফিকেটে বাবার নাম কী? সেখানে বাবার নাম শিশু মিয়া আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাবার নাম আব্দুল ওয়াহিদ। সার্টিফিকেটে আব্দুল ওয়াহিদই আছে। কারও নামে যদি ভুল হয়, সেটা সংশোধনের সিস্টেম আছে। এটা আমি করছি? এটা বোর্ড সংশোধন করে দিয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান যে আমার সার্টিফিকেটে লিখে দিয়েছে সেই কপি কি আপনাদের কাছে আছে? কত মানুষ তো কত কথা বলে। আমি কোনো কথা বলতে চাই না।

আপনি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের গডফাদার ছিলেন সচিবের এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছোট চাকরি করি। এ চাকরিতে কেউ গডফাদার হয়? আমার তো কোনো সম্পত্তিই নেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের ১৩ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত জয় পেল কানাডা

হরমুজ প্রণালি / এক রাতেই এক কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল পার

লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয় : ইরান

লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমিরাতে জরিমানা ছাড়াই বৈধ হওয়ার সুযোগ

জাল সনদধারী শিক্ষকের জন্য ফাঁসছেন অধ্যক্ষ ও সভাপতি

বিশেষ ভেস্ট পরে অনুশীলন করছেন মেসিরা, নেপথ্যে যে কারণ

মেসির কান্নার পর তার বাবার স্বাস্থ্যের খবর জানাল পরিবার

ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিং / বিশ্বকাপে মেসিকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে ওঠা কে এই রামিন রেজায়িয়ান

১০

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

১১

মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন এডিন জেকো

১২

আবারও দেশে ভূমিকম্প

১৩

নতুন রাস্তা হলো, তবুও দুর্ভোগ গেল না

১৪

বরিশালে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সৌদি প্রবাসী নিহত

১৫

ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

১৬

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরইউজের

১৭

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

১৮

শাহজাহান চৌধুরীকে গুলির পরিকল্পনা ফাঁস, লোহাগাড়া-সাতকানিয়াজুড়ে তোলপাড়

১৯

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের

২০
X