কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধের হুমকি

রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। ছবি : কালবেলা
রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। ছবি : কালবেলা

হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভ্যাটের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেস্তোরাঁ বন্ধেরও হুমকি দিয়েছেন মালিকপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার করের আওতা না বাড়িয়ে বা কর ফাঁকি রোধ করার ব্যবস্থা না করে অর্থবছরের মাঝামাঝি হঠাৎ তিনগুণ ভ্যাট বাড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

জানা গেছে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভ্যাটের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে সাধারণ মানের এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এটি বেড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হতে পারে। এ ছাড়া নন-এসি হোটেলের ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর জানিয়েছে, যেসব পণ্য ও সেবায় ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে তার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই বিধায় সর্বসাধারণের ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে না এবং মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব পড়বে না। জনস্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির শুল্ক কর হারে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, এসডিজি বাস্তবায়ন এবং জাতি হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি ও হার যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

৭০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো ভ্যাটের আওতার বাইরে জানিয়ে ইমরান হাসান বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিয়ে সরকার ঘাটতি মেটাতে পারে। আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো দেশের জনগণের ওপর ইচ্ছেমতো করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হলো প্রত্যক্ষ কর। যে যত বড় ধনী, তাকে তত বেশি আয়কর দিতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে করের আওতা না বাড়িয়ে ভ্যাটকে রাজস্ব আয়ের প্রধান হাতিয়ার করা হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে গড়ে সাড়ে তিন লাখ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট দিয়ে থাকে। এর বাইরে যে লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জমিয়ত থেকে বহিষ্কার নাসির উদ্দিন মুনির

রাবিতে শিক্ষকের গাড়ির ধাক্কায় পা ভাঙল ছাত্রীর

বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুরের পদত্যাগ ও ফেরার কারণ

খালেদা জিয়ার কবরে সমমনা জোটের ফুলেল শ্রদ্ধা

খালেদা জিয়ার জানাজায় মৃত্যুবরণকারী নিরবের পরিবারের পাশে তারেক রহমান

জনসংখ্যা বাড়াতে চীনে গর্ভনিরোধক পণ্যের দাম বাড়ছে

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড মৃত্যুদণ্ড 

ডাকসু প্রতিনিধিদের যে বার্তা দিলেন তারেক রহমান

অবসর নিয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন সাবিনা

থার্টিফার্স্ট উদ্‌যাপনের সময় সুইজারল্যান্ডে ৪০ জনের মৃত্যু

১০

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা

১১

মামলা সত্ত্বেও বরখাস্ত প্রধান শিক্ষককে পুনরায় নিয়োগের উদ্যোগ

১২

রেললাইনে মিলল নিখোঁজ রুবেলের রক্তাক্ত মরদেহ 

১৩

সার্কের চেতনা এখনো জীবিত : প্রধান উপদেষ্টা

১৪

সুপার ওভারের নাটকে রংপুরকে হারাল রাজশাহী

১৫

বাড়ি-গাড়ি নেই আখতারের, নগদ আছে ১৩ লাখ টাকা 

১৬

নগদের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড

১৭

শীত ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৮

নতুন বছরে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য দুঃসংবাদ

১৯

তাসনিম জারার দেশ-বিদেশের বার্ষিক আয় কত?

২০
X