ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে গত দুই বছরে কোনো সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে অবশ্য টানা পাঁচ সিরিজ জিতবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অবশ্য সেই ইতিহাস করতে হলে আগে পার হতে হবে সফরকারীদের দেওয়া চ্যালেঞ্জিং টার্গেট।
শনিবার (৯ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে লঙ্কানরা। সফরকারীদের পক্ষে ওপেনার কুশাল মেন্ডিস সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন। টাইগারদের পক্ষে রিশাদ ও তাসকিন নেন সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই দল একটি করে ম্যাচ জেতায় সিলেটে তাই তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি হয়ে দাড়ায় অলিখিত ফাইনালে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কখনোই টি-টোয়েন্টি সিরিজ না জেতা বাংলাদেশের সামনে তাই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। সেই লক্ষ্যে অবশ্য বাংলাদেশের সামনে অবশ্য লক্ষ্যটা বেশ বড়।
তবে সিলেটে টস জিতে ম্যাচের নবম ওভার পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৮ রানে তাসকিন ফেরান ওপেনার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে। তবে এরপর প্রথমে কামিন্দু এবং পরে অধিনায়ক হাসারাঙ্গাকে নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের দিকে নিতে থাকেন ওপেনার কুশাল মেন্ডিস।
শ্রীলঙ্কার এই টপ অর্ডার এবারের সিরিজে দুর্দান্ত ফর্ম আছেন। আগের দুই ম্যাচে লঙ্কান ইনিংসের ভিত গড়ে দেওয়া এই ব্যাটসম্যান আজ (শনিবার) টি-টোয়েন্টির ১৪তম ফিফটি পূর্ণ করেন। নিজের ফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশি বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংকেও ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে লঙ্কানদের রান বাড়াতে থাকেন কুশাল।
৩৫ বলে ফিফটি করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন কুশল। তবে অন্যপ্রান্তে থাকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও টাইগার বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার আগেই মুস্তাফিজের বলে শরিফুলকে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন।
পরে নামা ডেঞ্জারম্যান আসালাঙ্কাও টিকতে পারেননি। ১৫তম ওভারে তিন রানের মাথায় ফেরেন তিনি। তবে অন্য পাশে ঠিকই লড়তে থাকেন মেন্ডিস।
তাসকিন যখন কুশলের ঝড় থামান ততক্ষণে ১৬.৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৪০ পেরিয়েছে। ৫৫ বলে ৬ ছক্কা ও ৬ চারের মারে ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রান করে আউট হন কুশল। শেষদিকে দাসুন শানাকার ৯ বলে ১৯ ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ৭ বলে ১০ রানের ইনিংসে ভর করে ১৭০ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় লঙ্কানরা। যদিও কুশাল যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন সংগ্রহটা দুইশ ছাড়িয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছিল। কিন্তু শেষদিকে তাসকিন ও রিশাদ দারুণভাবে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছেন।
মন্তব্য করুন