উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশ আসীন হলেও বেশকিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে, তার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক নারী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করে শ্রম আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করা। পোশাক খাতসহ সব খাতে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত ও সন্তানের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, মজুরি বৈষম্য, ন্যায্য মজুরি, সময়মতো মজুরি প্রদান, চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।
শুক্রবার (৮ মার্চ) এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের নারী কমিটি ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) যৌথ উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের নারী কমিটির সদস্য রোজিনা আক্তার সুমি। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের নারী কমিটির আহ্বায়ক রেহানা আক্তার ডলি।
রেহানা আক্তার ডলি বলেন, পোশাক কারখানায় যারা শ্রমিক, তাদের অধিকাংশই নারী, আর যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারা বেশিরভাগই পুরুষ, ফলে নারী শ্রমিকরা নানা ধরনের হয়রানি ও প্রতিকূল পরিবেশের মুখে পড়েন। এছাড়া নারীকে পোশাক কারখানায় নারী হিসেবে নয়, সস্তা শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন শক্তিশালী করা দরকার সেই সাথে পোশাকশিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কারখানা মালিক/সরবরাহকারীদের পাশাপাশি ব্র্যান্ড/বায়ারদেরও দায়বদ্ধ আওতায় আনতে হবে।
এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের জাতীয় কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, এসডজি ৫ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে জেন্ডার সমতা অর্জন করতে হলে, দরিদ্র নারী ও মেয়েদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনসহ তাদের সকল অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই । ২০৩০ সালের মধ্যে জেন্ডার সমতা অর্জনে বিশ্ব সঠিক পথে এগোচ্ছে না, যার প্রধান কারণ হচ্ছে বাজেট ঘাটতি। জেন্ডার সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সারা বিশ্বে বার্ষিক ৩৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা আরও নাজুক, এখানে বাজেট ঘাটতি তো থাকেই, পাশাপাশি যতটুকু বরাদ্দ থাকে তা যথাযথভাবে ব্যয় হয় না। পাশাপাশি ব্যয় কতটা কার্যকরভাবে হলো তারও কোনো মনিটরিং নাই। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়ে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারসহ ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষমতায়নের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য, স্বনির্ভর হওয়ার জন্য সম্পত্তি প্রাপ্তিতেও সমান-অধিকার থাকা আবশ্যক।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অরিফুর রহমান, নারী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেত্রী সুমাইয়া ইসলাম, জাহানারা, সাথি আক্তার, রাশিদা আক্তার, নাজমা আক্তার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন