কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪৬ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৫০

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের মংডুতে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর হওয়া এ হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স শনিবার (১০ আগস্ট) জানিয়েছে, গত সোমবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিলেন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার পর মরদেহের স্তূপ জমে গিয়েছিল। যারা বেঁচে গিয়েছিলেন তারা ওই সময় স্তূপে গিয়ে নিজেদের পরিবার-পরিজনের খোঁজ করছিলেন।

নিহতদের মধ্যে এক গর্ভবতী নারী ও তার দুই বছর বয়সী মেয়েও ছিল। কয়েক দিন ধরেই রাখাইন রাজ্যের সব জায়গায় মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই হচ্ছিল। সোমবারের এই হামলা সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের উপর হওয়া হামলার মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী।

তিন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে আরাকান আর্মি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা এর বদলে সেনাবাহিনীর উপর দায় চাপিয়েছে। অপরদিকে সেনাবাহিনীও ভয়াবহ এ হামলার দায় বিদ্রোহীদের উপর দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে কর্দমাক্ত ভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে মরদেহ। তাদের স্যুটকেস এবং ব্যাগও পাশেই পড়েছিল। ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে ফেরা তিনজন জানিয়েছেন, ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন তিনি ৭০টি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। তবে রয়টার্স নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হতে পারেনি।

অবশ্য কোথায় হামলা হয়েছে সেটি জানতে সমর্থ হয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারের উপকূলীয় শহর মংডুতে ঘটেছে এ হামলা।

মোহাম্মদ ইলিয়াস নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, হামলায় তার গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়। এরপর তাদের মৃত্যু হয়। যখন ড্রোন থেকে মানুষের উপর হামলা চালানো শুরু হয় তখন তিনি তাদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। বর্তমানে বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি কয়েকবার গোলার শব্দ শুনতে পান। ওই সময় নিজেকে বাঁচাতে শুয়ে পড়েন। উঠে দাঁড়িয়ে দেখেন তার স্ত্রী ও কন্যা গুরুতর আহত ও বেশ কয়েকজন আত্মীয় মারা গেছেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলা থেকে তিনি, তার স্ত্রী ও নবজাতক বেঁচে গেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছেন। সামসুদ্দিন বলেছেন, হামলায় তিনি অনেককে নিহত ও আহত অবস্থায় গোঙাতে দেখেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাবার সংক্রান্ত ৬ সাধারণ মানসিক রোগ এবং লক্ষণ

গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় পাকিস্তানের কিংবদন্তির ছেলে গ্রেপ্তার

সরকারি নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ

‘মৃত্যু হলে জানাজায় আসবেন’ বহিষ্কারের পর আবেগঘন বার্তা বিএনপি নেতার

বিএনপির নারী প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্রোহী প্রার্থীকে জরিমানা 

কাউন্দিয়া ও বনগাঁকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার তুলির

‘ঋণখেলাপি ৩৯ প্রার্থী নিয়ে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবে না’

রাষ্ট্র মেরামতের ধারণাপত্র

ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্র আবিষ্কার

শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ, ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

১০

গ্রাহকদের সুসংবাদ দিল কনফিডেন্স সিমেন্ট

১১

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা

১২

বিএনপি সরকার গঠন করলে ব্যবসার পরিবেশ সহজ হবে : মিন্টু

১৩

বিএনপি-জামায়াতের তুমুল সংঘর্ষ

১৪

‘ভাই ব্যবসা’ নয়, রাজনীতিতে যোগদানের কারণ জানালেন স্নিগ্ধ

১৫

৩০০ কিলোমিটার রিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিলেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ

১৬

বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি

১৭

জামায়াতের যে বক্তব্যকে অহংকারের নমুনা বললেন বিএনপি নেতা

১৮

গাভিন গরু জবাই করে মাংস নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

১৯

ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ

২০
X