

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামের রাজপথে দীর্ঘ তিন দশকের লড়াই আর ব্যক্তিজীবনের ত্যাগই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশ্বনেতাদের কাতারে নিয়ে গেছে। মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে আমৃত্যু আদর্শে অটল ছিলেন, বেগম জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী আলমাস সিনেমা সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে আয়োজিত এক নাগরিক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে বেগম খালেদা জিয়া তার জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও আপস করেননি। এই জায়গাতেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি যে মশাল জ্বালিয়ে গেছেন, তা এখন তারেক রহমানের হাতে। এই মশাল আমাদের বয়ে নিতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র চর্চার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। জীবন সহজ হবে না। গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শোক সভায় বেগম জিয়ার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা। জন সি. ম্যাক্সওয়েলের উক্তি উদ্ধৃত করে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, নেতা তিনিই যিনি পথ চেনেন এবং অন্যকে পথ দেখান। খালেদা জিয়া কেবল গণতন্ত্রের কথা বলেননি, নিজে সেই পথে হেঁটেছেন।
বেগম জিয়াকে ‘দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক’ আখ্যা দিয়ে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তার অবদান চিরস্মরণীয়। তার গড়ে দেওয়া কৌশলগত ভিত্তি দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম জিয়া বলেছিলেন বাঁচতে হলে এ দেশেই বাঁচব, মরলে এ দেশেই। তার এই দেশপ্রেমই তাকে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, এসএম ফজলুল হক এবং তুরস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান। বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়া কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের বিএনপি প্রার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনজীবীসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভী। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আহমেদুল হক।
শোকসভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন