কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৫, ১০:৫১ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ বলে প্রচার করছে ভারতীয় গণমাধ্যম

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে সামনে ৯ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কে শত শত মানুষের সামনে এক নিরস্ত্র ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের নাম লাল চাঁদ সোহাগ—তিনি একজন বাংলাদেশি মুসলিম ব্যবসায়ী।

ঘাতকেরা ইট, সিমেন্টের ব্লক ও লোহার রড দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় কয়েকজনকে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করতেও দেখা যায়। মধ্যযুগীয় এই বর্বরতা ঘিরে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

পুলিশের তথ্যমতে, এই ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্তত ১৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে বহিষ্কার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

তবে ঘটনাটি ঘিরে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়া টুডে সোহাগকে ‘হিন্দু ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা প্রতিবেদনে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোনো একটি বিক্ষোভের ছবিও ব্যবহার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে আদৌ সংশ্লিষ্ট নয়। বাস্তবে, নিহত সোহাগ মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং ঘটনাটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িক কোনো টানাপড়েনের প্রমাণ মেলেনি।

এ ছাড়া WION ও নামস্তে তেলেঙ্গানাসহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও এই হত্যাকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের রূপ দিয়ে সোহাগকে হিন্দু পরিচয়ে তুলে ধরেছে।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া সরাসরি ধর্মীয় পরিচয় না টানলেও, তাদের প্রতিবেদনে সোহাগ হত্যার সঙ্গে সংখ্যালঘু নিপীড়নের প্রসঙ্গ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি পরিসংখ্যান জুড়ে দেওয়া হয়েছে—যা এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বাস্তবিক অর্থে কোনো সম্পর্ক রাখে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত একটি রাজনৈতিক সহিংসতাকে ভারতের কিছু গণমাধ্যম যে ধরনের সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তা তথ্যবিকৃতি এবং দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার উদাহরণ। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার কেবল দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ায় না, বরং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে—এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে সত্য ঘটনা তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক রহমানের সাথে রুশ রাষ্টদূতের বৈঠক

২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না বাড়ি ভাড়া

এসি ছাড়াই নগর ঠান্ডা করার নতুন পথ, বাঁচবে বিদ্যুৎ খরচ

৩ মাস ধরে তদন্ত, দায়ী শনাক্ত না করেই প্রতিবেদন!

মাথা গোঁজার ঠাঁই চান নিঃস্ব নূরজাহান

ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বন্ড জমার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

স্মার্টফোনের চার্জিং পোর্টের পাশে এই ছোট্ট ছিদ্র কেন থাকে? জেনে নিন

শহীদ আসাদের ৫৭তম শাহাদাতবার্ষিকীতে ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থীর রিট

চিন্ময়ের মাথার ওপর ছাতা, আদালতে কৌতূহল

১০

চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় হচ্ছে না আজ

১১

কুমিল্লা-২ আসনে ইসির সীমানা অনুযায়ী হবে নির্বাচন

১২

বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর বউকে চিনতে পারল না বর, অতঃপর...

১৩

নির্বাচনে জয় পেলে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করব : জামায়াত আমির

১৪

কর্মীরা বিয়ে করলেই ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছেন বস, বাচ্চা হলে দেবেন আরও

১৫

ফের গ্রেপ্তার ইভ্যালির রাসেল-শামীমা 

১৬

মালদ্বীপে জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

১৭

স্কটল্যান্ডের সাথে যোগাযোগই করেনি আইসিসি! 

১৮

ফাইনালে বিতর্কিত সেই পেনাল্টি মিসের পর যা বললেন দিয়াজ

১৯

গাজায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস

২০
X