আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। সময় বা স্বার্থের প্রয়োজনে ‘নিকট’ বন্ধুও শত্রু হয়ে যায়। তাই এত দিনের মাখামাখি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছেড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে সৌদি আরব।
বিশ্ব রাজনীতি না হোক অন্তত আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের মোড়ল হওয়ার খায়েশ দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই সক্ষমতা অর্জনে সামরিক শক্তি যথেষ্ট নয় দেশটির। তাই চীনের মতো নীতি বেছে নিয়েছে সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া যেখানে সামরিক শক্তি দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের কূটনীতিতে বিশ্বাসী, সেখানে চীনের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। অর্থনীতির কূটনীতি দিয়ে, বিশ্ব শাসনের স্বপ্নে বিভোর বেইজিং।
অনেকটা দেরিতে হলেও সৌদি আরবও এই কূটনীতির মানে উপলব্ধি করেছে। তাই দেশটির তরুণ তুর্কি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, সৌদি আরবকে নিয়ে নতুন স্বপ্নের জাল বুনছেন। সেই জাল বিস্তার করতে চাইছেন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও।
তাই দক্ষিণ আমেরিকায় নিজের পদচিহ্ন ফেলতে চাইছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। তেলনির্ভর সৌদিকে অর্থনীতির নানা শাখা-প্রশাখায় বিস্তারে যুবরাজ মোহাম্মদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দক্ষিণ আমেরিকা নিয়ে নতুন ছক কষছে সৌদি আরব। খনি খাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে সামনের দিনগুলোতে ব্রাজিল আর চিলি সফরে যাবেন সৌদি আরবের শিল্প ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বন্দর আল খোরায়াফ।
ব্রাজিল সফরে গিয়ে খনি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অ্যাভিয়েশনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন সৌদির খনিজমন্ত্রী। আর তার চিলি সফরের মূল লক্ষ্য লিথিয়াম। ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই লিথিয়াম। সৌদি সরকার নিজ দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন করতে চায় আর সেজন্যই চিলির সঙ্গে বসতে চাইছে রিয়াদ। এক বিবৃতিতে সে কথা খোলসাও করেছে সৌদি আরব।
লিথিয়াম উৎপাদনে চিলির অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। আগামী সোমবার ব্রাজিল নামবেন সৌদি খনিজমন্ত্রী আল খোরায়াফ। সেখানে তিনি দেশটির কৃষি ও শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া ব্রাজিলের মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন ও খনি প্রতিষ্ঠান ভ্যালের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন সৌদি খনিজমন্ত্রী। এরপর পরবর্তী রোববার চিলির উদ্দেশে ব্রাজিল ছাড়বেন তিনি। চিলি গিয়ে নিজের সমকক্ষ অরোরা উইলিয়ামসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন আল খোরায়াফ।
তেলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব। নিজেদের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে ইলেকট্রিক গাড়ির হাব হয়ে উঠতে চায় তারা। এ ছাড়া কপার, কোবল্ট, নিকেল ও লিথিয়ামের মতো খনিজের মালিকানা পেতে আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানির দ্বারস্থ হচ্ছে রিয়াদ। আর এজন্য কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালতেও সৌদি আরবের কোনো আপত্তি নেই।
মন্তব্য করুন