কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩, ০৮:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

টাইটান নিয়ে অবাক করা যত তথ্য

সাবমেরিন টাইটান। ছবি : সংগৃহীত
সাবমেরিন টাইটান। ছবি : সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে পানির প্রচণ্ড চাপে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে সাবমেরিন টাইটান। বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন এর ভেতরে থাকা পাঁচ পর্যটক। ধ্বংস হয়ে গেলেও ডুবোজাহাজ টাইটান নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো ডুবোজাহাজটি, কতটা ছিল এর ক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বা ছিল কেমন—এমন অনেক জিজ্ঞাসা ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে।

টাইটানকে সাধারণভাবে সাবমেরিন বলা হলেও এটি আসলে সাবেমেরিন নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে বলা হয় সাবমার্সিবল যান। সাবমেরিনের চেয়ে সাবমার্সিবলে শক্তির মজুত কম থাকে। সাবমার্সিবল পরিচালনার জন্য আরেকটি সহায়তাকারী জাহাজের দরকার হয়। টাইটান সমুদ্রে ট্রায়াল দেওয়া শুরু করে ২০১৮ সালে। ২০২১ সালে এটি প্রথম যাত্রা করে। গত বছর টাইটান অন্তত ১০ বার সাগরের গভীর তলদেশে ভ্রমণ করেছে।

টাইটান ছিল বিশ্বের একমাত্র বেসরকারি মালিকানাধীন সাবমার্সিবল, যা সমুদ্রের তলদেশে চার হাজার মিটার গভীরে যেতে পারত। সাগরের সবচেয়ে গভীরে যেতে সক্ষম মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস ডলফিনের চাইতেও অনেক বেশি গভীরতায় যেতে সক্ষম ছিল ২৩ হাজার পাউন্ড ওজনের টাইটান। পর্যটকদের টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছিল ছোট্ট এই ডুবোজাহাজ।

টাইটানে পাঁচজনের বেশি মানুষকে জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যে একজন পাইলট এবং বাকি চারজন যাত্রী। ঘণ্টায় ৩ দশমিক ৪৫ মাইল বেগে চলতে পারা টাইটানের ছিল চারটি ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব হতে পারে, তাই ডুবোযানটির দেয়াল উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরের অংশে ছিল শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা।

টাইটানে চেপে সাগরের তলদেশ বিশেষ করে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে হলে যাত্রীদের গুনতে হতো মোটা অঙ্কের টাকা। সবশেষ অভিযানে প্রাণ হারানো পর্যটকদের মাথাপিছু ভাড়া ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

শুধু অর্থ ব্যয় করলেই হয় না, টাইটানে ভ্রমণ করতে হলে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এর পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানগেটের ওয়েবসাইটের বলা হয়েছে, ভ্রমণেচ্ছু গ্রাহকদের বয়স অবশ্যই কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এ ছাড়া লম্বা সময় আবদ্ধ একটা জায়গায় বসে থাকতে এবং মই বেয়ে উঠতে সক্ষম হতে হবে। সাধারণত অভিযানের আগে টাইটানের যাত্রীদের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়।

পানির নিচে যাওয়ার আগে একটি সহায়তাকারী দল যাত্রীদের সাবমার্সিবলের ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা টেনে ১৭টি বোল্ট দিয়ে আটকে দিতেন। অর্থাৎ ভেতরে থাকা যাত্রীদের বাইরে বের হওয়ার কোনো রকম সুযোগ থাকে না। ভ্রমণ করার আগে সব পর্যটককে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হতো। যেটিতে যে কোনো ইনজুরি, মানসিক আঘাত থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমতি নেওয়া থাকত।

ডুবোযানটির বাইরে ছিল একাধিক ফোর কে ক্যামেরা। সেই সঙ্গে ভেতরে বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখার ব্যবস্থা ছিল। ডুবোযানের সামনের দিকে ছিল যাত্রীদের জন্য একটি টয়লেট। তবে অভিযানে যাওয়ার আগে ডায়েট সীমাবদ্ধ করতে বলা হতো, যেন টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন না পড়ে।

সাগরের গভীরে পৌঁছালে স্বাভাবিকভাবেই টাইটানের জিপিএস কাজ করত না। এর বদলে একটি বিশেষ টেক্সট মেসেজ সিস্টেমের মাধ্যমে পানির ওপরে থাকা সাপোর্ট জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত টাইটান। একটি মডিফায়েড ভিডিও গেম কন্ট্রোলারের সাহায্যে ডুবোযানটি পরিচালনা করতেন পাইলট।

বিস্ফোরিত হওয়ার সময় টাইটানের অবস্থান ছিল আটলান্টিকের তিন হাজার মিটার নিচে। যেখানে সমুদ্রের ওপরের দিকের চেয়ে পানির চাপ ছিল চারশ গুণ বেশি। সেই সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা আর ঘুটঘুটে অন্ধকার মিলিয়ে পরিবেশ ছিল ভীষণ প্রতিকূল।

যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের কাছেই অপর একটি ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পান। সেখানে সাবমেরিন টাইটানের পাঁচটি বড় অংশ পাওয়া যায়। এসব অংশ দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পানির অনেক গভীরে যাওয়ার পর বিকট বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় ডুবো জাহাজটি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের থেকে ৫৭ বছরের ছোট তার দ্বিতীয় স্ত্রী

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

চাটখিলে সাংবাদিককে হুমকি, থানায় লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগীর

২১ দিনে জাবির মেডিকেল সেন্টার থেকে উধাও সাড়ে ১৯ হাজার ওষুধ

প্রবাসী ছেলের জন্য ওষুধ পাঠিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না মায়ের

‘যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে নদীপাড়ে চলে আসেন, বাঁধ ভাঙছে’

প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

ভারতে পাচারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৬৫ কচ্ছপ জব্দ, সালদা নদীতে অবমুক্ত

মহাকবি কায়কোবাদ স্মরণে নবাবগঞ্জে ‘আজান’ কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

সারাদেশে খাল খননের নামে বালু-মাটি লুটপাট করা হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১০

গোয়ালন্দে ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার ভেঙে বন্ধ ওজন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ট্রাকচালকরা

১১

নড়াইল জেলা ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আহ্বায়ক জাকারিয়া, সদস্যসচিব সাগর

১২

স্কুলে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

১৩

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৪

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

১৫

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

১৬

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

১৭

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

১৮

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

১৯

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

২০
X