কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক যুদ্ধে গেম চেঞ্জার হয়ে উঠছে যে গোলা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স প্রথম ১৫৫-এমএম গোলার উদ্ভাবন করে। ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স প্রথম ১৫৫-এমএম গোলার উদ্ভাবন করে। ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক স্থল যুদ্ধে ন্যাটোর তৈরি ১৫৫-এমএম গোলা হয়ে উঠছে অন্যতম অস্ত্র। ফলে যুদ্ধরত দুই পক্ষের যার কাছে এ গোলার মজুত সবচেয়ে বেশি থাকবে তারাই কৌশলগতভাবে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। সম্মুখযুদ্ধে ১৫৫ মিলিমিটারের আর্টিলারি গোলার চাহিদা তাই এখন আধুনিক সমর ইতিহাসের সবচেয়ে তুঙ্গে রয়েছে।

ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা ঠিক যতদিন এ গোলা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারবে ততদিন রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে জেলেনস্কি বাহিনী। এমনকি অবরুদ্ধ গাজায় হামাসের অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসেও এ গোলার ব্যবহার করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স প্রথম এ গোলার উদ্ভাবন করে। তারপর ন্যাটোর সহযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে এ গোলার আধুনিকায়ন করা হয়। নিখুঁত টার্গেট আর ওয়ারহেডের ধ্বংস ক্ষমতার কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সেনাবাহিনীর কাছে যত ধরনের গোলা রয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কার্যকর বলে পরীক্ষিত।

উচ্চতায় দুই ফুট ও ৪৫ কেজি ওজনের এই গোলার পুরুত্ব ১৫৫ মিলিমিটার। উচ্চমাত্রায় বিস্ফোরক বহনের সামর্থ্য আর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে ক্রমেই বাড়ছে ১৫৫-এমএম গোলার চাহিদা।

বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এ গোলাকে নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক পরিবর্তনও করে নিচ্ছে কোনো কোনো দেশ। নরওয়ের প্রতিরক্ষা কোম্পানি ন্যামো ও মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তত্ত্বাবধানে র‌্যামজেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ গোলাকে আরও উন্নত ও নিখুঁত করা হচ্ছে। এ সংস্করণে অক্সিজেন ব্যবহারের কারণে এটি আরও তেল সাশ্রয়ী ও ৯০ মাইল পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অব্যাহত যুদ্ধের কারণে ১৫৫-এমএম গোলার দামও বাড়ছে হু হু করে। ২০২০ সালেও প্রতিটি গোলার দাম ছিল ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার বা আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিটি ১৫৫-এমএম গোলার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪০০ ডলার বা ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামার মধ্যে ১৫৫-এমএম গোলার উৎপাদনও বৃদ্ধ করেছে অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলো। ২০২৫ সালের মধ্যে মাসে ৮০ হাজার ১৫৫-এমএম গোলা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তাতে এগিয়ে থাকতেই এখন থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বুধবার সায়েন্সল্যাব-টেকনিক্যাল-তাঁতীবাজার অবরোধের ঘোষণা

যে কারণে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন, জানালেন তাসনিম জারা

মাদ্রাসার টয়লেটে মিলল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিসিবি : ‘এক ইঞ্চিও পিছু হটব না’

কলকাতার হয়ে খেলা পেসারকেও ভিসা দিচ্ছে না ভারত

প্রার্থী-সমর্থকদের প্রতি যে আহ্বান জানাল জমিয়ত

‘হাঙর’ নিয়ে আসছেন নেপালি তারকা প্রমোদ আগ্রহারী

শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে ছাত্রদলে এনসিপি নেতা

দেহরক্ষী ও বাসভবনে নিরাপত্তা পেলেন জামায়াতের আমির

জকসুর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

১০

পৌষ সংক্রান্তিতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

১১

ডিএনসিসিতে ‘ইয়ুথ ফর ফেয়ার সিটি’ প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু

১২

নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ দিল ম্যানইউ

১৩

খেজু‌রের রস খেতে গিয়ে শিয়ালের কামড়, আহত ৪

১৪

শান্তি, ঐক্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রবিনের

১৫

অনিশ্চয়তার দোলাচলে শাকসু নির্বাচন

১৬

দুঃখ প্রকাশ

১৭

বিয়ের পিঁড়িতে জেফার-রাফসান!

১৮

নতুন সূচকে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

১৯

কুপিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই, ৫ পুলিশ হাসপাতালে

২০
X