মুফতি আরিফ খান সাদ
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের বাজারে গরিবের কথা না ভুলি

ঈদের বাজারে গরিবের কথা না ভুলি

বছর ঘুরে আবারও আমাদের সামনে উপস্থিত পবিত্র ঈদুল ফিতর। অপেক্ষা এখন কেবল নতুন চাঁদের। পশ্চিমাকাশে বাঁকা চাঁদের দেখা মিললেই শুরু হবে উৎসবের আমেজ। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। সাড়ে চৌদ্দশ বছর পূর্বে নবী মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে যখন মদিনায় এলেন, তখন দেখলেন মদিনাবাসী বছরে দুদিন আনন্দ-উৎসব করে। সেই উৎসব সম্পর্কে নবীজি (সা.) জানতে চাইলে তারা বলেন, জাহেলি যুগ থেকে আমরা এ দুদিন উৎসব পালন করে আসছি। পরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের এ দুদিনের বদলে উৎসবের জন্য আরও উত্তম দুদিন দিয়েছেন, সে দুদিন হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ: ১/১৬১)।

সমাজের ধনী-গরিব সবার জন্যই ঈদ আসে। ঈদের মাঠে জাত-পাত-উঁচু-নিচুর পার্থক্য নেই। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে মুসাফাহা ও কোলাকুলি করে। বন্ধু বন্ধুকে, ভাই ভাইকে বাড়িতে নিয়ে সেমাই-পায়েস খাওয়ায়। শিশুরা বড়দের সালাম করে, বড়রা আদর করে দেন ‘ঈদ সালামি’। এভাবেই আনন্দে আনন্দে কেটে যায় একটি দিন; ঈদের দিন।

ইসলামের বার্তা হলো, ‘ঈদে নিজে আনন্দ করো, গরিবকেও উৎসব করার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো পোশাক পরিধান করো, অসহায়কেও পরার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো খাবার খাও, প্রতিবেশীকেও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।’ কিন্তু আমাদের সমাজের চিত্র ভিন্ন! ঈদ যেন কেবল বিত্তবানদের জন্যই আসে! ঈদের দিন বড়লোকের চোখেমুখে আনন্দের যেরকম ঝিলিক থাকে; গরিবের চেহারায় তা ফুটে ওঠে না। ধনীর দুলালরা নতুন দামি জামা পরে যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, গরিবের সন্তান তা ছুঁয়েও দেখতে পারে না।

ধনী-গরিবের এমন বৈষম্য ঘোচাতে ইসলাম কিছু বিধান জারি করে রেখেছে। নির্দেশ দিয়েছে ধনীরা যেন সম্পদের জাকাত দেয়। ঈদের নামাজের আগেই যেন সদকাতুল ফিতর আদায় করে। এসব গরিবের হক। গরিবও যেন ঈদে নতুন জামা কিনতে পারে। ভালো খাবার খেতে পারে। অপার্থিব আনন্দের সঙ্গে একটি দিন কাটাতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের (সম্পদশালীদের) ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।’ (সুরা আল-জারিয়াত: ১৯)। হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাকে অনর্থক কথা ও অশ্লীল ব্যবহার থেকে পবিত্র করার এবং গরিবদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য। (আবু দাউদ: ১৬১১)।

ঈদে অপেক্ষাকৃত গরিব আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তাদের হক আদায় করতে হবে। তারাও যেন উৎসব পালনে শামিল হতে পারে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক কোরো না। আর সদ্ব্যবহার করো মাতা-পিতার সঙ্গে, নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সঙ্গে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদের, যারা দাম্ভিক, অহংকারী।’ (সুরা নিসা: ৩৬)।

অতএব আসুন, ঈদের আগেই গরিবদের মাঝে আমাদের জাকাত, ফিতরা সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তাদের ঈদকেও আনন্দময় করে তুলি। যাদের জন্য জাকাত বা ফিতরা দেওয়া ফরজ নয়; তারাও দান-সদকার হাত প্রসারিত করতে পারি। অন্তত একটি গরিব পরিবার বা একজন অসহায় মানুষের ঈদ আনন্দের দায়িত্ব নিতে পারি আমি। তবেই না দূর হবে ধনী-গরিবের বৈষম্য। সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে ঈদুল ফিতরের অপার্থিব আনন্দ।

লেখক : মুহাদ্দিস ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হলেন সারওয়ার

পঁয়ত্রিশে পা দিচ্ছেন? এই ৬ স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার চেকলিস্টে থাকা উচিত

পরনারীর সঙ্গে ছবি তুলে উসকানিমূলক পোস্ট করতেন আলভী: ডিবি

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আরও এক দেশ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রধান বিষয় ‘লেবানন ইস্যু’

নৃত্যাঞ্চলের ৩০০ শিল্পীর ভরতনাট্যম নৃত্যে মন্ত্রমুগ্ধ সন্ধ্যা

হুট করেই আংটিবদল, কাকে বিয়ে করছেন গায়ক শেখ সাদী?

ইলিয়াস আলী গুমের বর্ণনা তুলে ধরলেন সাক্ষী

বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

১০০ জনকে নিয়োগ দেবে ডাম ফাউন্ডেশন, বেতন ৪১ হাজার টাকা

১০

ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

১১

সেতু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কর্মচারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপ্তি

১২

মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী

১৩

আদ্‌-দ্বীনের প্রতি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংহতি, দ্রুত চালুর দাবি

১৪

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল যেসব দল

১৫

বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

১৬

‘একটাও সামনে আইবি না, একদম মাইরা ফেলামু’, ভাইরাল ভিডিওর তদন্ত শুরু

১৭

মান্ডায় ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অব আইটির স্থায়ী ক্যাম্পাস

১৮

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রত্যাহার

১৯

জর্ডানে সন্ত্রাসবাদের দায়ে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

২০
X