ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে যেসব তথ্য জানা থাকা দরকার: পর্ব ১

ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে যেসব তথ্য জানা থাকা দরকার: পর্ব ১

ঢাকায় ২০০০ সালে ডেঙ্গু জ্বর ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে। শত শত রোগীর রক্ত এবং প্লাটিলেট জোগাড়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিল মানুষ। সেই সময় চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতাও ছিল সীমিত। বর্তমানে মানুষের ওই ভীতি ও আতঙ্ক নেই। চিকিৎসকরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও দক্ষ। সাধারণত এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে এ ভাইরাসে মানুষ সংক্রমিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার কামড়েও রোগ ছড়াতে পারে। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন।

ভাইরাসের ধরন: ডেঙ্গু ভাইরাস ৪ ধরনের, ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। তাই ডেঙ্গু জ্বরও চারবার হতে পারে। যারা একবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জ্বরের ধরন: ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর—সাধারণত তীব্র জ্বর ও সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি, মাংসপেশি, মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা হয়। এই জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতায় স্পর্শ করলেই কেঁদে ওঠে, খিটখিটে মেজাজের হয়। জ্বরের চার বা পাঁচ দিনের সময় শরীরজুড়ে লালচে দানা বা স্কিন র‌্যাশ হয়, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এ ছাড়া বমিভাব বা বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে, রুচি কমে যায়। সাধারণত চার বা পাঁচ দিন জ্বরের পর এমনিতেই চলে যায়। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দুই বা তিন দিন পর আবার জ্বর আসে। একে ‘বাইফেজিক ফিভার’ বলে।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর—ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা যেমন, শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপাত, চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে, মেয়েদের সময়ের আগেই মাসিক হওয়া, মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি। মস্তিষ্ক বা হার্টেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। এতে হাইপো ভলিউমিক শকে গিয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম: ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ হলো শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত, হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায়, হঠাৎ করে রোগী অজ্ঞান হতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এক একটি ফুল যেন একেকটি রঙের গল্প

ইরানের এলপিজি রপ্তানি নেটওয়ার্কে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় শোক প্রস্তাব

মায়ের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেল ছেলের, পাশাপাশি দাফন

চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, চুক্তি কী হবে?

এক বছরের কম সময়ে ফের শাহজালালে আগুন, সকালেই তদন্ত প্রতিবেদন

অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের ফাইনালসহ টিভিতে আজ যত খেলা

মিছিলের প্রস্তুতিকালে যুবলীগের বদিউজ্জামান আটক

দেশের ৭ অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরের জন্যও সতর্কবার্তা

১০

অতিরিক্ত গতি কেড়ে নিল দুই কিশোরের প্রাণ

১১

৬ জুন / আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৩

‘হান্নান মাসউদের তিন কোটি টাকার ডিল’ সংক্রান্ত অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলা

১৪

গোমস্তাপুর / শূন্যরেখার ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর কান্না কেউই শুনছে না, বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার

১৫

পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র, জানালেন কারণ

১৬

নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ আটকে দিচ্ছে ‘ডুবোচর’, ভরা মৌসুমেও আকাল

১৭

‘মব সৃষ্টি করে’ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

১৮

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা

১৯

‘আসিফ মাহমুদের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল’

২০
X