চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ট জনজীবন। প্রায় প্রতিরাতে হাতির পাল হানা দিচ্ছে উপজেলার পদুয়াসহ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। সোমবার রাত ২টার দিকে বন্যহাতির পাল হানা দেয় উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মহিষের বাম এলাকায়। প্রায় তিনঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে শতাধিক ফলজ বাগানের আম, নারিকেল, সুপারি, কাঠালসহ বিভিন্ন গাছপালা ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে বাগানের অন্তত ৫০০ মণ আম নষ্ট করে দিয়েছে হাতির পাল।
ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক শামসুল আলম জানান, পদুয়া মহিষের বাম এলাকায় ৮ একর ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমসহ বিভিন্ন ফলজ বাগানের বাণিজ্যিক চাষাবাদ করেছেন। সেই বাগানে সোমবার রাত ২টার দিকে হানা দেয় অন্তত ১৫টি ছোট-বড় বন্য হাতির পাল। এতে তার অন্তত ৬৫টি উন্নত প্রজাতির আমগাছসহ শতাধিক বিভিন্ন ফলজ গাছ ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়া খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে অন্তত ৫০০ মণ আম। এতে তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে হাতির পাল আসলেও, এখন প্রায় সারা বছরই হানা দিচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করার পর এভাবে যদি ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তবে এভাবে বাণিজ্যিক খামার গড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
এর আগেও গত ১৭ জুলাই একই ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজার এলাকায় রাশেদ তালুকদার নামে এক কৃষকের ধানের গুদামে ১০/১২টি বন্য হাতির পাল প্রায় ৪ হাজার কেজি ধান নষ্ট করে দিয়েছে। এভাবে উপজেলার সরফভাটা, কোদালা চা বাগান এলাকাসহ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত হানা দিচ্ছে বন্য হাতির পাল। এতে বরাবরের ন্যায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানিসহ বন্য হাতির কারণে ক্ষতির কবলে পড়ার আশংকা করছেন এলাকার বাসিন্দারা। আতংকিত গ্রামবাসী হাতির তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ব্যাপারে খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আম বাগানে বন্য হাতি হানা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তার অনেক গাছপালা ও আম নষ্ট হয়েছে। সে যেনো ক্ষতিপূরণ পায়, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর হাতির ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড আমরা অব্যাহত রেখেছি। লোকালয়ে হাতির তাণ্ডব ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণে বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।’
মন্তব্য করুন