বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিআর-কাবিটা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করায় বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ করা প্রায় ১৮ লাখ টাকা ফেরত গেছে বলে জানা গেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে টিআর-কাবিটার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজে গরিমসি ও মন্থর গতিতে কাজ করায় প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের গত ৩০ জুন শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ে ওই প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প চেয়ারম্যানদের ৩০ জুনের পর টাকা ফেরত দিতে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা তাদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া (উত্তোলনকৃত) টাকা ফেরত দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মূলবাড়ী নূরপুর সড়কে অবস্থিত শ্মশানের রাস্তায় মাটি ভরাট প্রকল্পের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিরাঞ্জন চন্দ্র বলেন, সব টাকার মাটি কাটার পরও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা পরিদর্শনের পর মাটি কাটার পুনরায় নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী মাটি না কাটায় ওই প্রকল্পের ৩৭ হাজার ৪১৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি মূলে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
একই কথা বলেন একাধিক প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা। তারা আরও বলেন, এসব প্রকল্পের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা পেশায় তো ঠিকাদার নন, যে তাদের টাকায় কাজ শেষ করার পর বিল উত্তোলন করবেন। এসব প্রকল্পের বিপরীতে টাকা না দিয়ে উল্টো কাজ করার তাগিদ প্রদান করে। ফলে কোনো প্রকল্প চেয়ারম্যান তাদের নিজস্ব টাকায় কাজ না করায় প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকা বলেন, গত অর্থবছরে চেয়ারম্যানরা যে প্রকল্পগুলো দাখিল করেছেন, সেগুলোর বেশিরভাগেরই কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন কি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেন, ওই টাকাগুলোর কাজ হলে অনেক প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের চেহারা পরিবর্তন হতো। টাকা ফেরত যাওয়ায় সোনাতলার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত হলো।
মন্তব্য করুন