কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রোপা আমনের চারা এবং বীজতলা, রোপা আউস, সবজি ও আখসহ কমপক্ষে ১২ হাজার ৭৬৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আজ তারা দিশাহারা এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও তেরোটি ইউনিয়নের সবকটি গ্রামের কৃষি মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে আমন ধানের বীজতলা, রোপা আমন, রোপা আউস, সবজি ও আখ ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। ফসলি মাঠগুলোতে এখন শুধু পানি আর পানি।
এ সময় চান্দিশকরা গ্রামের ইব্রাহিম ও সুখেন দাস জানান, তারা কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেক টাকা ঋণ নিয়ে আমনের চাষ করেছেন। নিজেরাই বীজতলা তৈরি করে আমনের চারা এনে ক্ষেতে রোপণ করেছেন। ওই চারা বড় হতে শুরু করেছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত। আর বেশির ভাগ চারা পানিতে ভেসে গেছে। বাকিগুলো পচে গেছে। এতে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এই কৃষকরা বলেন, এখন নতুন করে যে আবারও চারা রোপণ করব সে টাকা নেই। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব কীভাবে। সরকারিভাবে যদি অর্থ সহযোগিতা পাই তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।
পৌরসভার দক্ষিণ ফাল্গুন পাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন, আব্দুর রশিদ, খলিল মজুমদার, আবুল কালাম, রোফ হোসেনসহ অনেক কৃষক বলেন, চারা রোপণের উপযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বীজ ভেসে গেছে। এতে আমাদের একেক জনের অনেক টাকা করে লোকসান হয়েছে। এখন নতুন করে আর বীজতলা তৈরির সময় নেই। অন্য জেলা থেকে আমনের চারা কিনে এনে রোপণ করলে কিছুটা লোকসান পুষিয়ে উঠা যাবে। আর যদি অন্য জেলায় আমনের চারা না পাই তাহলে জমি অনাবাদি থাকবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ৭২০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৮ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১৪০ হেক্টর জমির সবজি, ৩ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমির রোপা আউস ও ৩৫ হেক্টর জমির আখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়ের হোসেন কালবেলাকে বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। আমরা ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৮০০ কৃষককে বী-৭৫ ও বীনা-১৭ ধানের বীজ সহায়তা দিয়েছি। বরাদ্দ পেলে হয়তো আরও কৃষককে দিতে পারব। এ ছাড়া যেসব এলাকায় পানি নেমে গেছে ওই এলাকার কৃষকদের সবজি চাষ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।
মন্তব্য করুন