বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩৩
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশে ফিরেই গ্রেপ্তার বরগুনার সালাউদ্দিন

মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : কালবেলা
মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : কালবেলা

দীর্ঘ এক যুগ ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরেই মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরগুনায় অপহরণের পর আলোচিত অনিক চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

শনিবার (২৪ মে) বেলা ১২টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

এর আগে শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৯টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট নামক এলাকা থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নামক এলাকার আবদুস ছত্তার গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের থানাপাড়া নামক এলাকার বাসিন্দা সুবল চন্দ্র রায়ের ছেলে অনিক চন্দ্র রায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে দীর্ঘসময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে, ওই মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে সালাউদ্দিন গাজীকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবি করে ডিশ লাইনের তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে অনিককে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনার ১৭ দিন পর বরগুনা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সেফটি ট্যাংকি থেকে নিখোঁজ অনিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামি ৬ জনের মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অপর তিন আসামির জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে মামলার পরপরই মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে ভারত থেকে ফিরে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অপহরণের পর হত্যার শিকার অনিকের বাবা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, আমার ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করেছে আসামিরা। এছাড়াও আমার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণও চায় তারা। তবে তাদের কথা অনুযায়ী মুক্তিপণ নিয়ে গেলেও তাদের দেখা পায়নি। এ ঘটনায় দীর্ঘ বছর পালিয়ে থাকার পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সালাউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর চাই।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান কালবেলাকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড সজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ নয় বছর ভারতে পালিয়ে ছিল। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

১০

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

১১

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

১২

বিজয় থালাপতি এখন বিপাকে

১৩

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৪

নির্বাচন ও ডিজিটাল বাস্তবতা নিয়ে ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম সিটির প্রস্তুতি সভা

১৫

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার 

১৬

সুর নরম আইসিসির

১৭

অরিজিতের বড় ঘোষণা, হতবাক সংগীতপ্রেমীরা

১৮

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে

১৯

পল্টনে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে আদালতকে যা বললেন পবিত্র কুমার

২০
X