শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ১০:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অবিবাহিত তরুণীর নামে মাতৃত্ব ভাতা, টাকা যাচ্ছে মেম্বারের জামাতার পকেটে!

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আংগারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ। ছবি : কালবেলা
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আংগারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ। ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় এক অবিবাহিত তরুণীর নামে চালু রয়েছে মাতৃত্বকালীন ভাতা! অথচ নিজেই জানেন না এমন ভাতার কথা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ভাতার টাকা চলে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্যার জামাতার মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার আংগারপাড়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা মোছা. নুরনাহার বেগমের সুপারিশে। অভিযোগ উঠেছে, তার সহায়তায় ভুয়া তথ্য দিয়ে আংগারপাড়া ইউনিয়নের তালেব মেম্বারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের মেয়ে আক্তারিনা আক্তারকে গর্ভবতী দেখিয়ে মাতৃত্ব ভাতার আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে স্বামীর নাম দেওয়া হয় ‘পায়েল’ এবং একটি গর্ভাবস্থার সনদপত্র সংযুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে এ ভাতার আবেদন করা হয় এবং সেটি অনুমোদনও পেয়ে যায়। এরপর থেকে প্রতি মাসে ৮০৫ টাকা হারে ওই ভাতা তোলা হচ্ছিল ইউপি সদস্যার জামাতার মোবাইল নম্বর সংযুক্ত এক নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। অথচ আক্তারিনা আক্তার এখনো অবিবাহিত এবং কোনো মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা তার জীবনে ঘটেনি।

ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি অবিবাহিত, এমন কোনো ভাতা সম্পর্কে কিছুই জানি না। যারা এসব করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

ঘটনার সত্যতা উঠে আসে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাম্প্রতিক যাচাই-বাছাইয়ে। তদন্তে দেখা যায়, ভাতার জন্য ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরটি ইউপি সদস্যা নুরনাহার বেগমের জামাতার। নাম বিভ্রাট নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। আক্তারিনা দাবি করা হলেও তার স্ত্রীর প্রকৃত নাম সুরাইয়া আক্তার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্যা মোছা. নুরনাহার বেগম স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। আমার মেয়ে অসহায়, তার বয়স কম হওয়ায় অন্য জনের এনআইডি দিয়ে কার্ড করেছি।’

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা মোস্তারি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অবিবাহিত তরুণীর নামে হওয়া ভাতা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন অনৈতিক কাজ অপ্রত্যাশিত। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, এমন জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনিয়মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজের নাম পরিবর্তন

কওমি মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা : জামায়াত আমির

কুমিল্লায় বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী

রোহিতের রেকর্ড ভেঙে স্টার্লিংয়ের ইতিহাস

শনিবার শুরু হচ্ছে চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার / ‘বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে’

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশের আহ্বান

কারাবন্দি যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, কমান্ডো নামাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে এ নির্বাচন আমাদের দিকনিদের্শনা দেবে : তারেক রহমান

নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা বন্ধ করতেই হবে

১০

চাকরিচ্যুত সেই মুয়াজ্জিনের পাশে তারেক রহমান

১১

আ.লীগ থাকলে জামায়াত থাকবে, জামায়াত থাকলে আ.লীগ থাকবে : মাহফুজ আলম

১২

জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি প্রার্থী

১৩

বগুড়ার জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান

১৪

বিটিভিতে শুরু হচ্ছে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান অভিনন্দন

১৫

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ / ‘শঙ্কিত’ সংখ্যালঘুরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন

১৬

প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হাউজিং লিমিটেডের আবাসন প্রকল্প ‘আশুলিয়া আরবান সিটি’র শুভ উদ্বোধন

১৭

সড়কে ঝরল বিএনপি নেতার প্রাণ

১৮

অতীত ভুলে শরীয়তপুরকে আধুনিক জেলা গড়ার অঙ্গীকার নুরুদ্দিন অপুর

১৯

মেন্টরশিপ, তৃণমূল সংযোগ ও পারিবারিক বাধা : চ্যালেঞ্জের মুখে নারীর রাজনীতি

২০
X