মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ০৬:১৬ পিএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘যদি নৌকা থাকত, অনেক সমস্যা মিটে যেত’

দিনাজপুরের খানসামার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী এলাকার মাঝিয়ালির চর। আত্রাই নদীর বুক চিরে ভেসে আছে। ছবি : কালবেলা
দিনাজপুরের খানসামার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী এলাকার মাঝিয়ালির চর। আত্রাই নদীর বুক চিরে ভেসে আছে। ছবি : কালবেলা

আত্রাই নদীর বুক চিরে ভেসে আছে ছোট্ট এক টুকরো জমি- নাম মাঝিয়ালির চর। চারপাশে ঢেউয়ের কলতান, আর মাঝখানে ২০ একরের সবুজ জমি। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা কাঁচা-টিনের ঘর, যেখানে ১৩টি পরিবার গড়ে তুলেছে তাদের ছোট্ট গ্রাম। এই চর উত্তরের জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের বাসুলী এলাকায় অবস্থিত।

বর্ষা না এলে এই চরের জীবন শান্ত। সকালে মাঠে কাজ, বিকেলে গরু-ছাগল চরানো, আর সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে গল্প। কিন্তু বর্ষা এলে বদলে যায় সবকিছু। নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে ওঠে, আর চর হয়ে যায় একেবারে দ্বীপ। তখন চারপাশের পৃথিবী থেকে যেন আলাদা হয়ে যায় তারা। নদীর বুকের এই চরের মানুষগুলো প্রতিদিন নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচে। বর্ষার জলরাশিতে বন্দি হয়ে থাকলেও তাদের চোখে এখনো একটুখানি আশার আলো—যেদিন নিজের নৌকা থাকবে, সেদিন হয়তো এই বন্দিত্ব ভাঙবে।

সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল লতিফ বসে আছেন নিজের উঠানে, দূরে নদীর দিকে তাকিয়ে বলেন- ‘৭১ সালের যুদ্ধের পর এখানে এসেছি। বর্ষায় পানি বাড়লে আমরা বন্দি হয়ে যাই। অসুস্থ হলে বা দরকারে বাইরে যেতে অন্যের নৌকা ভাড়া করতে হয়। অনেক সময় নৌকা মেলে না, তখন ভোগান্তি বাড়ে।’

চরের তরুণ সোহেল ইসলাম যোগ করলেন, ‘বর্ষায় বাজার, স্কুল- সবকিছুই কষ্টকর হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে চিন্তা হয়। যদি নিজের একটা নৌকা থাকত, অনেক সমস্যা মিটে যেত।’

আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, আগে একটি নৌকা দেওয়া হলেও তা এখন ভেঙে গেছে। নতুন নৌকা বানানোর কাজ চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার কালবেলাকে বলেন, ‘মাঝিয়ালির চর যেন বর্ষায় বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হচ্ছে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি সংক্রান্ত বৈঠকের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী

১৫ বছরেই জাতীয় দলে ডাক পেয়ে ইতিহাস গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী

সাদাপাথর ভ্রমণে প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা

সিলেটে অনির্দিষ্টকাল পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আজীবন সহায়তা দেবে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

বর্ষা শুরুর আগেই যমুনায় তীব্র ভাঙন

দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরির বিষয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় না হলে চুক্তি নয় : ইরান

‘৩ ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই’, রামিসার বাবা

ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, সাংবাদিক পরিচয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি

১০

সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পর্শে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

১১

হরমুজে চাপ সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটিয়েছে ইরান : খামেনির উপদেষ্টা

১২

ভারতের পুশ-ইন নিয়ে সীমান্তে বিজিবির বিশেষ সতর্কবার্তা

১৩

বাজার সংস্কারে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

১৪

নেসলে বাংলাদেশ পরিদর্শনে সুইজারল্যান্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল

১৫

নেসকো ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

১৬

ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না মির্জা ফখরুলের

১৭

মীমাংসিত জমি ফের দখলের চেষ্টা, সাংবাদিকের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি

১৮

বিরিয়ানির বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে বিবেক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাশেদ খাঁনের ক্ষোভ

১৯

শূন্যরেখায় থাকা ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

২০
X