

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোর্শেদকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, মোর্শেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশা বর্তমানে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা ও দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির মানসিক অবস্থার প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুদের বাবা পারিবারিক কলহ ও অভাবের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায় বলে জানা গেছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার কালবেলাকে বলেন, মৃত শিশুর মরদেহ তার দাদির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মরদেহটি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, মোর্শেদ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল। পাশাপাশি সে চর্মরোগসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও অবহেলার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। বিষয়টি জানাজানি হলে মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন দ্রুত শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এ ঘটনায় গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলম বাঁশখালী উপজেলা থেকে আনোয়ারা থানায় এসে খোঁজ নিতে আসেন। পরে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে আটক করে হেফাজতে নেয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ বাদী হয়ে অরক্ষিত অবস্থায় শিশুদের পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে শিশুদের বাবা কারাগারে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন