

উত্তাল পদ্মার কারণে এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের মাদারীপুর-শরীয়তপুর জেলায় পারাপারে চরম ভোগান্তি হতো। দুই পারের ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১ জেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশকে সংযুক্ত করেছে। এতে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হয়েছে; তেমনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও হয়েছে।
স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু ঘিরে মাদারীপুরে বহুমাত্রিক উন্নয়ন হয়েছে; এখনও অনেক উন্নয়ন চলমান আছে। ইতোমধ্যেই এই পদ্মা সেতুর জন্য শিবচরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নতুন ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
পদ্মা সেতুকে ঘিরে মাদারীপুরে নির্মাণ করা হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে; শিবচর উপজেলাজুড়ে প্রণয়ন করা হয়েছে নানা মেগা প্রকল্প। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সব মেগা প্রকল্পের বেশ কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। আর চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মাদারীপুরে বৃহৎ অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিটরা।
উপজেলা ইউএনও অফিসের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খাকন মিয়া জানান, পদ্মা সেতু ঘিরে শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ও জাজিরার নাওডোবা এলাকায়১২০ একর জমির ওপর ১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লীর কাজ। প্রত্যেক তাঁতির জন্য কারখানা ও আবাসন সুবিধা থাকবে। নির্মিত হবে আন্তর্জাতিক মানের শো-রুম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাঁতিদের পরিবারের জন্য থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপেক্স। এ ছাড়া শিবচরে ৮ একর জমিতে ১৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান রয়েছে শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
অন্যদিকে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ থেকে পদ্মা সেতু ও জেলার শিবচর হয়ে পুরো দক্ষিণাঞ্চল রেলওয়ের চলছে। শিবচর-ভাঙ্গা-মাদারীপুর হয়ে রেললাইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যাবে বলে জানান তিনি।
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন। এই পদ্মা সেতুর জন্য অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আবার অনেক মেগা প্রকল্পগুলো চলমান আছে। নতুন নতুন প্রকল্প পাস হচ্ছে।