রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৫০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

৭ ডিসেম্বর : চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস আজ

শহিদ বেদী। ছবি : কালবেলা
শহিদ বেদী। ছবি : কালবেলা

আজ ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চুয়াডাঙ্গা জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ্ জেলা অভিমুখে পালিয়ে যায়। হানাদারমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার অবদান অবিস্মরণীয়। প্রথম রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত হয় চুয়াডাঙ্গা। তারিখও নির্ধারিত হয় এপ্রিলের ১০। খবরটি আগেভাগেই জানাজানি হয়ে যাওয়ার ফলে কৌশলগত কারণে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় প্রথম রাজধানী হয় এবং প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জেলার জীবননগর শহরে পাকহানাদার বাহিনীর পতন ঘটলেও চূড়ান্ত বিজয় আসে ৪ ডিসেম্বর। এদিন ভোরে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কমান্ডার মেজর দত্ত ও বর্ম্মা এবং ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করে জীবননগর, দত্তনগর, হাসাদহ সন্তোষপুর, রাজাপুর, ধোপাখালী ও মাধবখালীতে অবস্থানরত পাকবাহিনীর উপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী প্রচণ্ড যুদ্ধ। এ সময় রাজাপুর ও মাধবখালী সীমান্তে সন্মুখ সমরে শাহাদৎ বরন করেন হাবিলদার আব্দুল গফুর, নায়েক আব্দুল মালেক, আব্দুর রশিদ, সিপাহী সিদ্দিক আলী, আব্দুল আজিজ ও আবু বকর। যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে জেলার দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল দিয়ে পাক বাহিনীর উপর গেরিলা আক্রমণ শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়। এরপর ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাক বাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহরমুখি মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজের একাংশ শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয়। যাতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অনুসরণ করতে না পারে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়। এরপর ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয়। এ দিন স্বতঃস্ফুর্ত মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গার মাটিতে প্রথম উত্তোলন করে লাল-সবুজ খচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা। শুরু হয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। মোস্তফা আনোয়ারকে মহকুমা প্রশাসক করে এখানে বেসামরিক প্রশাসন চালু করা হয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গাকে মুক্ত করে এ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। চুয়াডাঙ্গায় মোট মুক্তিযোদ্ধা ১ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে যুদ্ধাহত ১৫৬ জন। এ রণাঙ্গণে শহীদ হয়েছেন ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ জেলায় দু’জন বীর প্রতীকও রয়েছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্থানী বাহিনীর সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার এসব সূর্য সন্তানদের সাহসী মোকাবেলা চুয়াডাঙ্গাকে করেছে মহিমান্বিত।

এ কারণে জাতীয় গৌরবের প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গা জেলার নন্দিত অবস্থান ইতিহাসে স্বীকৃত। এ দিনটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: বিজয়ের ৫৩ বছর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী দল ঘোষণা

আসুন আমাকে তুলে নিয়ে যান, ট্রাম্পকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

সুন্দরবনের পর্যটনবাহী নৌযান মালিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

টিকিট চাওয়ায় ছাত্র পরিচয়ে টিটিইকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

কুয়াশা ও তীব্র শীতে ক্ষতির মুখে বোরো বীজতলা, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

জকসু নির্বাচন:  / সিইসি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্রের ফল প্রকাশ, এগিয়ে ছাত্রশিবির 

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে কী হবে বাংলাদেশের

১০

শীতে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখবেন যেভাবে

১১

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত ২৫, গ্রেপ্তার হাজারের বেশি

১২

তীব্র শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

১৩

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

১৪

ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তুলনা করলেন ট্রাম্প

১৫

জকসু নির্বাচন : ভিপি-জিএস-এজিএসে এগিয়ে ছাত্রশিবির

১৬

শীতে আপনার সন্তানকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে

১৭

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৮

নওগাঁয় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বিপর্যস্ত জনজীবন

১৯

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয় : মোশাররফ

২০
X