গোবিন্দ দেব, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:০০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথপুরের যুদ্ধাহত মনমোহিনী বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাননি আজও

মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিতে আহত জগন্নাথপুরের মনমোহিনী বিশ্বাস। ছবি : কালবেলা
মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিতে আহত জগন্নাথপুরের মনমোহিনী বিশ্বাস। ছবি : কালবেলা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলিতে আহত মনমোহিনী বিশ্বাস (৮৫) স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাননি। জীবনবাজি রেখেও পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে নিজের বাবা-মাকে রক্ষা করতে পারেননি মনমোহিনী বিশ্বাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মনমোহিনীর বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করে। বাবা-মাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মনমোহিনী। এখন ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গুলি বুকে নিয়ে আজও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়া মনমোহিনী বিশ্বাস সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম গ্রামের বাসিন্দা। একাত্তরে তার পিতা হরকুমার বিশ্বাস ও মাতা প্রফুল্ল বিশ্বাসকে স্থানীয় রাজাকারের সহযোগিতায় পাকবাহিনী গুলি করে হত্যা করে। তখন মনমোহিনীর বুকে গুলি লাগলে তিনিও আহত হন। স্হানীয় রাজাকাররা তাদের বাড়ি ও দখল করে নিয়ে যায়।

মনমোহিনী বিশ্বাস স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবরে লিখিত আবেদন দিয়ে আজও কোনো ফল পাননি। স্বাধীনতার ৫২ বছরেও মনমোহিনী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও সম্মান না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এলাকার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। দীর্ঘদিন ধরে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ করা যায়নি। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তিনি বঞ্চিত রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মুক্তিবাহিনীকে রান্না করে খাওয়ানো ও সহযোগিতা করার কারণে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় মনমোহিনীর বাবা-মাকে ভোররাতে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে আহত হন মনমোহিনী নিজেও। স্থানীয় রাজাকাররা তাদের পরিবারের বাকি লোকদের হুমকি দিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। তারা ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ফলে তাদের বাড়িঘর স্থানীয় রাজাকাররা দখল করে নেয়। মনমোহিনী আজও তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পরের বাড়িতে থাকেন।

নিজ গ্রামের মানুষসহ উপজেলার অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা মনমোহিনী বিশ্বাসকে বীরাঙ্গনা বলে ডাকলেও কাগজে-কলমে তার স্বীকৃতি মেলেনি স্বাধীনতার ৫২ বছরেও। ৮৫ বছর বয়সী মনমোহিনী বিশ্বাস অলস সময়ে ঝাপসা চোখে এখন শুধু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি মৃত্যুর আগে নিজের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দেখে যেতে চান।

জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কাইয়ুম বলেন, হাড় গ্রামে পাকবাহিনী ভোররাতে হরকুমার বিশ্বাস ও প্রফুল্ল বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের মেয়ে মনমোহিনী বিশ্বাসও গুলিবিদ্ধ হন। তাকে সরকার থেকে স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে।

জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম বলেন, মনমোহিনীর ঘটনা শুনে আজও কান্না আসে। তার বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত আমি মনে করি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য বলেন, মনমোহিনী বিশ্বাসের আরও আগে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল। না পাওয়াটা দুঃখজনক।

হাড় গ্রামের গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, আমার পাশের বাড়ির ঘটনা এটি। সেদিন মনমোহিনীর বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মনমোহিনীও গুলিবিদ্ধ হন। অথচ সরকার থেকে আজ পর্যন্ত কোনো স্বীকৃতি পাননি তিনি।

মনমোহিনী বিশ্বাসের ছেলে গোপাল বিশ্বাস বলেন, আমার মা মনমোহিনী বিশ্বাস মৃত্যুর আগে স্বীকৃতিটুকু দেখে যেতে চান। মনমোহিনী বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা-মাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমিও গুলিবিদ্ধ হই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন- আমার বয়স এখন ৮৫ বছর আর এই শেষ বয়সে ও মৃত্যুর আগে আমি বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দেখে যেতে চাই।

জগন্নাথপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যা প্রমাণাদি রয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া এখন মনমোহিনী বিশ্বাসের অধিকার।

পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। মনমোহিনী বিশ্বাস গুলি লেগে আহত হন। তিনি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: বিজয়ের ৫৩ বছর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩৩ যাত্রী নিয়ে উল্টে গেল বাস

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের দাবি / বাংলাদেশ না গেলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে

জনগণের সরকার গঠনের অঙ্গীকারে গণসংযোগ শুরু ইশরাকের

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত মৌলভীবাজার

জোট নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠে মঞ্জু

নির্বাচনের আগেই একটি দল ঠকাচ্ছে : তারেক রহমান

আমরা না থাকলে সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলত: ট্রাম্প

পুরো আসরজুড়ে ব্যর্থ মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খুললেন সিলেট কোচ

অফিসে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন সহজ কিছু উপায়

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী তারিকুল

১০

সিলেটে বিএনপির জনসভায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৪ নেতাকর্মী

১১

উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার হয়েছে : তারেক রহমান

১২

হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনী প্রচার শুরু

১৩

বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া সমালোচনা সাবেক ভারতীয় তারকার

১৪

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স / রোগী দেখার পাশাপাশি গণভোটের প্রচারে চিকিৎসকরা

১৫

জুলাই যোদ্ধার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণা শুরু

১৬

রাঙামাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ

১৭

তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান / ৪ কোটি নারীর হাতে থাকবে ফ্যামিলি কার্ড

১৮

৪১৯ উপজেলায় ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রি শুরু, কেজিপ্রতি কত

১৯

সিলেটে জনসভায় যোগ দিলেন তারেক রহমান

২০
X