রেজাউল করিম লিটন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গার বধ্যভূমিগুলো মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী

চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি : কালবেলা
চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি : কালবেলা

দেশের অনেক স্থানে বধ্যভূমির সংখ্যা থাকলেও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বধ্যভূমির সংখ্যা যেন একটু বেশিই। যুদ্ধকালীন গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে আগুন ধরিয়ে এবং নির্বিচারে মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে, নাটুদহের স্কুলের পেছনে, জীবননগরের ধোপাখালী গণকবর, মদনার হৈবৎপুর গ্রামে পাঁচকবর, নাটুদহের আটকবর, আলমডাঙ্গার লালব্রিজ সংলগ্ন বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি বহন করে চলেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গায় বধ্যভূমি ১৯৭১ সালের গণহত্যার নিদর্শন। আলমডাঙ্গার কুমার নদের ওপর লালব্রিজের দুপাশে ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প। রেললাইনে খুলনাগামী ডাউনে অর্থাৎ লালব্রিজের আলমডাঙ্গার পাশে একটি ও নদের অপর পাড়ে কুষ্টিয়ার দিকে কালিদাসপুরে আরেকটি ক্যাম্প ছিল। আপের দিকে আসা ট্রেন লালব্রিজের আলমডাঙ্গা মাথায় দাঁড় করাত পাক বাহিনী।

অন্যদিকে, যাওয়া ট্রেন লালব্রিজের কালিদাসপুর প্রান্তে দাঁড় করিয়ে নিরপরাধ যাত্রীদের ধরে ধরে নিয়ে যেত। অকথ্য নির্যাতন শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ এ বধ্যভূমিতে ফেলে রাখত। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক ঘাতকরা ট্রেন থামিয়ে স্বাধীনতাকামী প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষ হত্যা করে রেলব্রিজের পাশে ওয়াপদা ভবনের বাউন্ডারির মধ্যে ও পার্শ্ববর্তী দুটি বধ্যভূমিতে ফেলে রাখে। এ গণহত্যার প্রধান হোতা ছিলেন মেজর রানা, মেজর আজম খান, ক্যাপ্টেন নকডি ও হাবিলদার এনায়েত।

এই লালব্রিজ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও বাঙালি নর-নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের জুন থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নারকীয় নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সেই সময় এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলুদ খালাসি ঘর ছিল। এ কক্ষেই স্বাধীনতাকামী যুবক, নারী-পুরুষকে নির্যাতন করে হত্যা করা হতো। সে স্মৃতি স্মরণ রেখে চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান ছেলুনের নেতৃত্বে এখানে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। টর্চার সেল নামক সেই হলুদ কক্ষটি ঘিরে এখন বধ্যভূমির স্তম্ভ বা কমপ্লেক্স।

প্রতিদিন দর্শনার্থীরা আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের লালব্রিজের কাছের এ বধ্যভূমিতে আসেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্থানি ও রাজাকারদের নারকীয় তাণ্ডবের ধ্বংসলীলা দেখে যান। ২০০৯ সালে পাকবাহিনীর বাঙালি জাতির ওপর জঘন্যতম এ নির্যাতনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটি বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় এ স্মৃতিস্তম্ভ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ বধ্যভূমির গর্তে পাওয়া গেছে শত শত মাথার খুলি ও হাড়।

স্মৃতিস্তম্ভের দেয়ালে নানা ধরনের ভাস্কর্য। সামনের সবুজ ঘাসের আঙিনায় রয়েছে শহীদদের ভাস্কর্য, মিউজিয়ামের ভেতরে আছে আরও কিছু ভাস্কর্য। এ ছাড়া ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালির ধারাবাহিক মুক্তি সংগ্রামের সচিত্র ছবিও কমপ্লেক্সে পাওয়া যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: বিজয়ের ৫৩ বছর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম-৫ আসন / মীর হেলালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদের দিনভর গণসংযোগ

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ফজলুর রহমান

বার্সেলোনা শিবিরে দুঃসংবাদ, কোচের কপালে ভাঁজ

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে পাঁচ কর্মসূচি প্রকাশ বিএনপির

৪৬তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা পিএসসির

এআই ভিডিও এবং অপতথ্য নির্বাচন ও নিরাপত্তায় হুমকি

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ৩, হামলাকারী পলাতক

বিশ্ব ক্রিকেট কাঁপিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের ‘উত্তাল’ ২০ দিন   

গ্রিনল্যান্ড কার হাতে যাবে, তা রাশিয়ার বিষয় নয় : পুতিন

১০

বিএনপির ৫ কর্মসূচির ঘোষণা, নেবে মতামত ও পরামর্শ

১১

‘ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে বিএনপি’

১২

ড. খলিলের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, মন্তব্যে চীনের প্রতিবাদ

১৩

জাকাতের বিধান ও সমকালীন মাসায়েল নিয়ে নতুন গ্রন্থ ‘জাকাত’

১৪

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প 

১৫

নির্বাচনের ছুটি পাবেন না যারা

১৬

চেকপোস্টে গুলি উদ্ধার, পরে আইনজীবীর বাসায় মিলল অবৈধ পিস্তল

১৭

তাদের প্রটোকল বিএনপির চাইতে ৩ গুণ করে দিন : তারেক রহমান

১৮

বিশ্বকাপ বয়কট করলে যে ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশের

১৯

বিপথগামীর জন্য কারাগার হবে সংশোধনাগার : কারা মহাপরিদর্শক

২০
X