হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ক্ষেতজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে সরিষা ফুল

সরিষা ক্ষেতে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা । ছবি : কালবেলা
সরিষা ক্ষেতে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা । ছবি : কালবেলা

শীতের শুরুতেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ফসলের মাঠজুড়ে দেখা যায় সরিষা ফুলের হলুদ বর্ণের সমারোহ। এই সরিষা ফুল নিয়ে কবিদের হাজারও কবিতা।

শীত মৌসুম আসতে না আসতেই প্রকৃতিপ্রেমীরা ডুবে যায় সরষে ফুলের সৌন্দর্যে। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়েসের নারী-পুরুষ এই সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নেমে পড়ে ফসলের মাঠে। শহর থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন গ্রামের মাঠে ঘাটে।

এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সবে মাত্র উঁকি দিচ্ছে সদ্য ফোটা সরিষা গাছের হলুদ বর্ণের ফুল। আর এই সরিষা ফুলের সঙ্গেই যেন মিশে আছে হাজারও কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। চলতি রবি মৌসুমেও সরিষা চাষে লাভের স্বপ্নে বিভোর উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বারি-১৪ ও বারি-১৫ সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ১১ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি সরিষার চাষ করা হয়েছে। উন্নত জাত ও দেশীয় জাতের রাই, চৈতা ও মাঘি সরিষার বীজ বপন করছেন কৃষকরা। তবে প্রচলিত দেশি সরিষার চেয়ে উন্নত জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫ ফলন বেশি হওয়ায় এ দুই জাতের সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী বলে জানান কৃষকরা।

উপজোলার দুর্গম চরাঞ্চল আজিমনগর এলাকার এনায়েতপুরের নাসির উদ্দীন জানান, আমাদের চরাঞ্চলে সরিষার চাষ বেশ ভালোই হয়। এই সরিষা ফুলের দৃশ্য দেখতে জেলা শহর থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী এই চরাঞ্চলে আসেন। আমি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছের অবস্থা বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, শীত মৌসুম আসলেই শহর থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা গ্রামে ছুটে আসেন। এশীত মৌসুমে সরিষা ফুল ফুটলেই তারা আসেন। এটা বেশ ভালো। শহরের যান্ত্রিক জীবনযাপন ভেদ করে কিছুটা সময় হলেও শেকড়ের গন্ধ পান তারা। মিশে যান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের মাঝে। এ উপজেলায় বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষার চাষ আরও বৃদ্ধি করার জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেলের রজতজয়ন্তী উদযাপিত

পুলিশকে কোপানোর ঘটনায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা এক বিষয় নয়, বলছে গবেষণা

ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় মিলবে ৮ দিনের ছুটি

‘মৃত্যুর পর জাভেদের সম্মাননা’ প্রত্যাখ্যান করলেন নায়কের স্ত্রী

তৃতীয় বারের মতো সরস্বতী পূজায় নারী পুরোহিত সমাদৃতা

বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোববার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন

শনিবার ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সুখবর পেলেন বিএনপির আরও ২ নেতা

সিডনির কাছে বড় হার, ফাইনালে যাওয়া হলো না রিশাদদের

১০

গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর হাসপাতালে আসামির মরদেহ ফেলে পালাল পুলিশ

১১

ভারতে না এলে ক্ষতিটা বাংলাদেশেরই, দাবি সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের

১২

বিপিএলে টস জিতে বোলিংয়ে চট্টগ্রাম

১৩

এই ৪ অভ্যাসে বাড়বে আপনার সন্তানের বুদ্ধি

১৪

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

১৫

জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে

১৬

প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য জেনেও অনুষ্ঠিত ৭ কলেজের পরীক্ষা, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি  

১৭

আবেগে ভাসলেন রানী মুখার্জি

১৮

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

১৯

ব্যাংক লুটের চেয়ে ভোট ভিক্ষা উত্তম : হাসনাত আব্দুল্লাহ

২০
X