শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১৩ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নারীকে হত্যা, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

শরীয়তপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর এক নারীকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নিজাম বালী (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ওমর ফারুক বেপারী (২৪), আল আমীন বেপারী (২০) ও ইব্রাহীম মোল্লা (২১)। আসামিদের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ সুতলকাঠীর বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার ৫৫ বছর বয়সী নারী ফিরোজা বেগম। ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে দশ কিলোমিটার দূরের পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বড় নওগা এলাকার আব্দুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার হাত ভাঙা ও মাথা আঘাতের ক্ষত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন ওই নারীর ছোট ভাই লাল মিয়া সরদার বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শরীয়তপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে পাঁচজন জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পুলিশ। বাকি আসামি চার্জশিট থেকে অব্যাহতি পায়। পরে ২৮ এপ্রিল ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিজাম বালীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেন। ওই তিনজন আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আর অন্য দুই আসামি ইব্রাহিম ও আল-আমীন পলাতক আছেন। আর ওমর ফারুক জামিনে গিয়ে পলাতক। এ ঘটনায় পরবর্তীকালে পুলিশ ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২২ জনের স্বাক্ষগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

নিহত ফিরোজা বেগমের ছেলে চিকিৎসক শাহ জালাল হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, আমরা রায়ে খুশি হয়েছি। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত যেন এই রায়ে কার্যকর হয়।

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সানাল মিয়া কালবেলাকে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের রায়। এক নারীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলায় পাঁচজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করা যাবে না : মির্জা আব্বাস

ভালোবাসা দিবসে বিষাদমাখা প্রেমের গল্প

এক কলেজ থেকে মেডিকেলে সুযোগ পেলেন ১০৮ শিক্ষার্থী, দেওয়া হলো সংবর্ধনা

সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান

বিয়ে না করেই জামালপুর ছাড়লেন চীনা যুবক

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সুখবর দিল মন্ত্রণালয়

মায়ের গায়ে হাত তোলা মানে পুরো জাতির ওপর আঘাত : জামায়াত আমির

নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, অতঃপর...

যে কোনো সময় ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

এবার ভারত থেকে বিশ্বকাপই সরিয়ে নেওয়ার দাবি

১০

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে রাষ্ট্র ও সংবিধানে কী কী পরিবর্তন আসবে

১১

হঠাৎ নিপা ভাইরাস আতঙ্ক, ভারতে বিশ্বকাপ হবে তো?

১২

জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের জামাই আদরে রাখা হবে : কৃষ্ণনন্দী

১৩

প্রথমবার একসঙ্গে প্রীতম-মেহজাবীন

১৪

পাবনায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা

১৫

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / পোস্টাল ভোটে রেকর্ড নিবন্ধন, দেশে পৌঁছল যত ভোট

১৬

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এক প্রার্থী

১৭

মাগুরায় হঠাৎ আলোচনায় সাকিব আল হাসানের বাড়ির সংস্কার

১৮

ওটিটি জগতে ‘দোয়েল’-এর পথচলা শুরু 

১৯

মাঠের অভাবে খেলাধুলা থেকে দূরে শিশুরা : বিএফইউজে মহাসচিব

২০
X