আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের আইসিডিডিআরবিতে মারাত্মক হারে বাড়ছে শিশু রোগী। রোগীর স্বজনরা বলছেন, শীতের প্রকোপে ভাইরাসজনিত কারণেই শিশুরা ডায়রিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হারে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি শীতের সময়ের রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতাই পারে এ রোগ থেকে শিশুসহ সবাইকে সুস্থ রাখতে।
মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মতলবের আইসিডিডিআরবিতে গেলে রোগীর এ চাপ দেখা যায়।
হাসপাতালের তথ্যমতে, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মাত্র ১০০ বেডের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআরবিতে এখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী। বেড ১০০ হলেও এখানে রোগীর ভর্তি প্রায় দুই শতাধিক। শুধু চলতি বছরের জানুয়ারিতেই এ হাসপাতালটিতে সেবাপ্রার্থী রোগীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন- চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরিয়তপুর জেলার ৩৫টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী এখানে আসছে। যার প্রায় ৮৫% রোগীই ২ বছরের নিচের শিশু এবং এরা অধিকাংশই রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত।
রোগীর স্বজনরা বলছেন, দুই তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য ২টি এবং বয়স্কদের জন্য একটি ওয়ার্ডে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এখানে এসে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দ্রুত সময়ে চিকিৎসকদের কল্যাণে সুস্থ হচ্ছে।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ফেলো ডা. আয়শা আক্তার তুর্না বলেন, দূষিত পানি ও দূষিত খাবার খেলে এবং শিশু পরিচর্যাকারী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শিশুর পরিচর্যা করলেই এ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে খাবার সেলাইন ও বেবি জিংক এবং বয়সানুযায়ী শিশুকে স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে গেলে এ রোগ থেকে ৫-৭ দিনে নিরাময় সম্ভব।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. চন্দ্র শেখর দাস বলেন, এ হাসপাতালে রোগীদের ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে ৮ জন চিকিৎসকসহ প্রায় ৫০ জন স্টাফ অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। যদিও রোগীর ধারণক্ষমতা ১০০। তবে এখানে ৩০০ এর অধিক রোগী একদিনে ভর্তি হলেও চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হাসপাতালটির রয়েছে।
মন্তব্য করুন