দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে উচ্চ আদালত এবং জয়পুরহাটের আদালত থেকে জামিনে মুক্তিপান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ ১৩ জঙ্গি নেতা। জামিনে গিয়ে তারা আর আদালতে হাজির হননি দীর্ঘ সময় ধরে। প্রায় ২০ বছর আগে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পলাতক জঙ্গিসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলামের আদালতে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
পলাতক জঙ্গিরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার আনোয়ার হোসেন, তারিকুল ইসলাম। রংপুরের জয়নাল আবেদীন। গাইবান্ধার মামুনুর রশিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছরোয়ার জাহান, শহিদুল ইসলাম ও তুফান ওরফে আবুল কাশেম। রাজশাহীর শহীদুল্লাহ ফারুক ও আদনান ছামি। নওগাঁর সাইফুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুস। বগুড়ার আরিফুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জের সালাউদ্দিন ওরফে ছালেহীন।
পলাতক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। জয়পুরহাটের এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তরা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তা উল্লেখ করেন।
কারাগারে আছেন- জয়পুরহাটের মন্তেজার রহমান, সালাউদ্দিন, আজিজুল বারী ও গোলাম মোস্তফা। দিনাজপুরের আনোয়ার সাদাত। বগুড়ার মাইনুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক। এ মামলায় ৩৭ জন আসামি জামিনে মুক্ত আছেন।
জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমার (বাংলা ভাই), আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আওয়াল এ মামলার আসামি ছিল। অন্য একটি মামলার রায়ে তাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর জোনের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক জালাল উদ্দীন তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ৬০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে দিনাজপুর জোনের সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আহসান উল কবীর অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করে ২০১০ সালের ২৫ মে ওই ৬০ জন আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার ৩ আসামি মারা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ১৩ জন জেএমবি জামিনে গিয়ে পলাতক আছেন। পলাতকদের বিরুদ্ধে তাদের নিজ জেলার গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও জঙ্গিদের পলাতকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর মহেশপুর গ্রামের জেএমবির স্থানীয় নেতা মন্তোজার রহমানের (পরে মন্তোজার সিরিজ বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত) বাড়িতে তখন চলছিল জঙ্গিদের গোপন বৈঠক।
খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ হানা দিলে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে গুরুতর আহত হন সদর থানার তৎকালীন ওসি ইকবাল শফিসহ ৬ পুলিশ। তখন পুলিশের তিনটি শটগান, ৪৫ রাউন্ড গুলি, বেতারযন্ত্র (ওয়াকিটকি) লুট করে নিয়ে যায় জঙ্গিরা।
পুলিশ জানায়- এ সময় জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া রিভলবার, পিস্তল, এসএলআর, গুলি, বিস্ফোরক, উগ্রবাদী বই, লিফলেট, ডায়েরি, জঙ্গি প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ বিপুলসংখ্যক আলামত জব্দ করা হয়।
ওই ঘটনায় জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন এসআই শফিকুল ইসলাম সাজু বাদী হয়ে ৩৩ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত আরও ৭০ জনকে আসামি করে ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতে ২১ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা বেশ কয়েক মাস হাজতে থাকে। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন।
মন্তব্য করুন