ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৪, ০২:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৪:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পানিশূন্য যমুনা নদী, যতদূর চোখ যায় বালু আর বালু

জামালপুর ইসলামপুর অংশের যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচর। ছবি : কালবেলা
জামালপুর ইসলামপুর অংশের যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচর। ছবি : কালবেলা

জামালপুর ইসলামপুরে এক সময়ের খরস্রোতা যমুনা এখন আর নদীর অবস্থায় নেই। শুকিয়ে পরিণত হয়েছে খালে। কোথাও কোথাও হেঁটেই পার হওয়া যাচ্ছে। যমুনার অভ্যন্তরীণ অনেক রুটেই খেয়াপারের জন্য এখন আর নৌকার প্রয়োজন হয় না। ডানে বাঁয়ে যতদূর চোখ যায়, শুধুই বালুচর। নদীর গতিপথে কচ্ছপের পিঠের মতো হাজারো ডুবোচরে পরিণত হয়েছে যমুনা।

যতদূর চোখে দেখা যায়, শুধুই বালুর চর। এটা কি আগের সেই উত্তাল তরঙ্গের যমুনা নদী। দৃশ্যপটে সেটা মনে হয় না। এখন সেগুলো শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এক সময় যে নদীর প্রশস্ততা ছিল ২/৩ কিলোমিটারেরও বেশি। সে সময়ে যমুনার ভরা যৌবনের তর্জন গর্জনে মানুষের বুকে কাঁপন সৃষ্টি করত। নদী পাড়ের মানুষের রাতের ঘুম উড়ে যেত। সেই যমুনা ক্রমেই তার যৌবন হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

অন্য দিকে চরাঞ্চলের গরু ও মহিষের বাথান এলাকাগুলোর শ্রমিক ও গবাদি পশুর জীবন চরম গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের যেন দুঃখের সীমা নেই। মাঠঘাট জমি জমা ফেটে চৌচির। গাছপালা তেমন না থাকায় গরমে চলছে লু-হাওয়া। ফলে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় কয়েকটি রুটে নৌকা চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। মুরাদাবাদ ঘাট থেকে প্রতিদিন গাইবান্ধা সাগাটা ঘাট লোকজন যাতায়াতের একটা রুট এবং গোঠাইল ঘাট থেকে, শিয়ালদহ, আমতলী, মন্নিয়াচর, বরুল, প্রজাপতি, কাসারিডোবা কটাপুর মণ্ডলপাড়া ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন চরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদীর নাব্য কমে চর জেগে ওঠায় অনেক দূর দিয়ে ঘুরে নৌকা চলাচল করছে। এতে তেল খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সময়ও লাগছে বেশি। ফলে যাত্রী ভাড়া ও মালামাল পরিবহনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এসব রুটে অন্য কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়ছেন।

নদীর পানি কমে নৌ ঘাট দূরে সরে যাওয়ায় তপ্ত বালুচর ভেঙে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মালামাল পরিবহনসহ শিশু ও নারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নৌ রুট বন্ধ থাকায় অনেক মাঝি যেমন বেকার হয়ে পড়েছেন, তেমনি মৎস্যজীবীরাও পড়েছেন বিপাকে। যমুনা নদীর পানি হ্রাস পেলে তিন কিলোমিটার পথ বেড়ে ১৫ কিলোমিটারে পৌঁছে। এতে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম মণ্ডল ও বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক জনগণের চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন।

এদিকে মণ্ডল পারা, উলিয়া, সাপধরী ও আমতুলী অনেক নদী ঘাটে খেয়ার পরিবর্তে ঘোড়ার গাড়ি ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রবল বাতাসে গ্রিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ফেনীতে তারেক রহমানের সমাবেশে জনস্রোত, স্লোগানে উত্তাল সমাবেশস্থল

১০১ বছর বয়সে রাত জাগা, জাঙ্ক ফুডের অভ্যাসেও সুস্থ তিনি

ডাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাবিতে চাঁদাবাজি-উচ্ছেদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন 

গুলিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বিএনপির ৩ নেতা  বহিষ্কার

জামায়াতকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন এলডিপির প্রার্থী

কালাই বড়িতেই ঘুরছে অর্থের চাকা, বদলাচ্ছে শত কারিগরের জীবন

মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান আমিনুল হক

১০

ছাত্রদলের মিছিলে গিয়ে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ল সায়দুল

১১

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার আরও একজন

১২

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ : রবিন

১৩

‘চাঁদাবাজির অভিযোগ’ ইস্যুতে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ ঢাবি ছাত্রদলের

১৪

কনসালট্যান্ট পদে চাকরি দেবে এসএমসি, নেই বয়সসীমা

১৫

বিশ্বকাপ বয়কট করলেই নিষিদ্ধ হবে পাকিস্তান, আইসিসির হুমকি

১৬

সমালোচনা আর দোষারোপে মানুষের পেট ভরবে না : তারেক রহমান

১৭

‘আলফা এ আই’- এর ঘরে প্রিয়তমা খ্যাত হিমেল আশরাফ

১৮

ঢাকায় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে মিডল্যান্ড ব্যাংক

১৯

প্যারোল কী? বন্দিরা কখন ও কীভাবে প্যারোল পান

২০
X