কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণসহ হত্যায় ফুফাতো ভাইয়ের যাবজ্জীবন

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

১০ বছর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন ওরফে ফাতেমাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যার দায়ে ফুফাতো ভাই সুমন মিঝিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অপহরণের দায়ে তাকে আরও ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক গোলাম কবীর এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সাজ্জাদ হোসেন সবুজ জানান, ‘ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সুমনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস তাকে কারাভোগ করতে হবে। অপহরণের দায়ে দেওয়া ১৪ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম সাজার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘মামলার শুরু থেকে এ আসামি কারাগারে আছে। আজ রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।’

মামলার বিবরণী থেকে, যাত্রাবাড়ীতে সবুজ বিদ্যাপিঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ফাতেমা। ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে স্কুলের সামনে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। পরে সুমন ফাতেমার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নম্বর দেখে তারা জানতে পারেন এটা সুমনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।

এ ঘটনায় ফাতেমার মা রোকেয়া বেগম ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের মামলা করেন। পরে ফাতেমার লাশ পাওয়ার পর মামলাটি ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী খান মাহমুদ জানান, ‘সুমনের ছোট ভাইয়ের সাথে ফাতেমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা চাঁদপুরে থাকতো। ছোট ভাইয়ের সাথে বিয়ের কথা বলে সুমন ফাতেমাকে চাঁদপুরে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা লঞ্চে একটা কেবিন ভাড়া করে। রাতে ফাতেমাকে ধর্ষণ করে। পরে হত্যা করে। লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়। চাঁদপুরের হিলশা ঘাট থেকে কয়েকদিন পর ফাতেমার লাশ উদ্ধার হয়।’

এদিকে ওই বছরের ৫ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে সুমনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আলতাফ হোসেন সরকার। এরপর আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ মামলার রায় দিলেন।

ফাতেমার মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার ছেলে আর একমাত্র মেয়ে। মেয়েটাকে খুন করছে। ওর ফাঁসি হয়নি। আমি রায়ে অসন্তুষ্ট।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : ত্রাণমন্ত্রী

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও এক শিশুর মৃত্যু

‘শান্তিরক্ষীরা জীবন বাজি রেখে দেশের সম্মান রক্ষা করছেন’

যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, গুলশানে পদবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, এসএসসি পাসেই আবেদন

সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

ইরান ও ইসরায়েলকে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

বিগত বছরের তুলনায় কমেছে অপরাধের সংখ্যা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালাল ইসরায়েল

১০

এক দিনে হাম ও উপসর্গে ৮ মৃত্যু

১১

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪৭

১২

নৌবাহিনীতে চাকরির সুযোগ, পদ ২১৪

১৩

বলিউডের বৈষম্য ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন তাপসী পান্নু

১৪

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টোল আদায়ের বৈধতা দিলেন পৌর প্রশাসক

১৫

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিল সরকার

১৬

শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শিগগিরই, হাইকোর্টে পৌঁছেছে পেপারবুক

১৭

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

১৮

মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু

১৯

স্ত্রীর সামনে প্রস্রাব করার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

২০
X