কোটা বৈষম্য নিরসন করে সংসদে আইন পাসের লক্ষ্যে জরুরি অধিবেশন আহ্বান ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণপদযাত্রা ও রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সিলেটের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ গণপদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ৬ কিলোমিটার হেঁটে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, উপপুলিশ কমিশনার ডিআইজি আজবাহার আলী শেখ, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমরুল হাসান, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর, কোতোয়ালি থানার ওসি মইন উদ্দিনসহ প্রশাসনের ব্যক্তিরা।
শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ গালিব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখে আমরা বলতে চাই, ৩০ শতাংশ কোটা সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় তা থাকতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আজকের সময়ে এই তীব্র বেকার সংকটের কারণ এই বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনা (সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার) ও লক্ষ্য অর্জনে প্রধান অন্তরায়। এর ফলেই ঘরে ঘরে আজ বেকারত্ব এত প্রকট আকার ধারণ করেছে। লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার হতাশাগ্রস্ত হয়ে আজ সমাজে বিরাজমান। তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা তারা জানে না।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। পুঁজিবাদের ক্ষয়িষ্ণু যুগে তার কোনো সুযোগও বাস্তব নয়। এ রকম একটি সংকটগ্রস্ত পরিস্থিতিতে আবারও সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জনমানুষের চাকরি পাবার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করবে, অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি করবে। অতীত সময়ে (২০১৮ সাল) এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্ররা আন্দোলন করেছিল। বর্তমান সময়ে আবার আন্দোলন করেই এ রায় বাতিলে বাধ্য করতে হবে। কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
মন্তব্য করুন