এক বছর দুই মাস পার করলেও গঠিত হয়নি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এদিকে পদ-পদবি না পাওয়া অবস্থায় ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই পোমেল বড়ুয়াকে সভাপতি ও মো. মাহফুজুর রহমান শামীমকে সাধারণ সম্পাদক করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এক বছরের জন্য ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এই কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আরও ২ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি বেরোবি শাখা ছাত্রলীগ। ৩১ জুলাই ২০২৩ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।
এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বছর পেরিয়ে দুমাসেও কমিটি গঠন হয়নি। এতে পদবঞ্চিত হচ্ছে ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
৫ মাস আগে ২১ মে সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নিমিত্তে আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা নেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন বর্ষের প্রায় ৫০০ আগ্রহী শিক্ষার্থী সিভি জমা দেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের অনুসারীদের পদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে এক ধরণের নীরব দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা নিজ নিজ অনুসারীদের কমিটিতে স্থান দিয়ে নিজের আধিপত্য নিশ্চিত করতে চায়। প্রকাশ্যে তারা দুজন দ্বন্দ্বে না জড়ালেও তাদের অনুসারীদের মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশী একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা অনেকে ৫ থেকে ৬ বছর ধরে বেরোরি ছাত্রলীগের রাজনীতি করছেন। কিন্তু আজও কোনো পদ পাননি। তাদের অনেকেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া লেখা ও ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পথে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর পেরিয়ে গেছে অথচ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কোনো নাম গন্ধও নেই। বায়োডাটা জমা নেওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়নি। এতে করে সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
সিভি জমা দেওয়া এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। দীর্ঘ দিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতৃত্বশূন্য হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হাল ধরার মত যোগ্য কোনো নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ছাত্রলীগের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী বাবুল হোসেন বলেন, আমরা যারা কর্মী তারা কর্মী পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি । তবে অবশ্যই দায়িত্ব পাওয়া যে কোনো কর্মীর জন্য সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সে জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ইতিমধ্যেই আমাদের জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে। তবে আশা করি খুব দ্রুতই আমাদের মত কর্মীরা তাদের পরিচয় পাবো এবং সংগঠনের জন্য কাজ করার সুযোগ হবে।
এ বিষয়ে বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান শামীম বলেন, কমিটি গঠনের জন্য জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা নেওয়া হয়েছে। সিভি যাচাই বাছাই চলছে। হুট করে তো কাউকে কমিটিতে নিয়ে আসা যায় না। যাচাইবাছাই প্রায় শেষ। আশা করা যায় চলতি মাস অক্টোবরেই মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলে আসবে।
বেরোবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া মেয়াদ উত্তীর্ণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির না হওয়ার ব্যর্থতা আমাদেরই। আমাদের কমিটি মেয়াদ অনুয়ায়ী এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এটাকে ব্যর্থতা হিসেবে নিচ্ছি না। কারণ যারা কমিটিতে আসবে সবার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক মতাদর্শ আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করছি যাতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটিতে ঢুকতে না পারে। এই কারণে একটু সময় লাগছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমারা সিভি জমা নিয়েছি যা প্রায় সব কিছু প্রস্তুত। এখন কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটির লিষ্ট জমা দিলেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়ে যাবো। সেন্ট্রাল কমিটি নেতৃত্বে আসা আগ্রহীদের দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দেখে তাদের দায়িত্ব দিবেন বলে আশা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন