বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ ছয়টি ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় এক ছাত্রদল কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ নভেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তুলে এনে মারধর করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী ছাত্রদল কর্মীর নাম মিজানুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক (৪৪ ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলেন, মাহিদ হাসান (প্রত্নতত্ত্ব ৪৭ ব্যাচ), শান্ত মাহবুব (নৃবিজ্ঞান ৪৬ ব্যাচ), জিসান আহমেদ রনি (অর্থনীতি ৪৭ ব্যাচ), আশেক মাহমুদ সোহান (বঙ্গবন্ধু ও তুলনামূলক সাহিত্য ৪৭ ব্যাচ), মাশুকুর রহমান ফাহিম (প্রত্নতত্ত্ব ৪৭ ব্যাচ), সরোয়ার শাকিল (ইতিহাস ৪৭ ব্যাচ), তৌহিদুল ইসলাম শুভ, মামুন (ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান ৪৭ ব্যাচ), রাজু শেখ (প্রত্নতত্ত্ব ৪৬ ব্যাচ), রাশেদ (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ৪৬ ব্যাচ), হাসিব (ফিন্যান্স এন্ড ব্যাঙ্কিং ৪৬ ব্যাচ), অরবিন্দ (বাংলা ৪৬ ব্যাচ) সহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগী বলেন, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২০-৩০ জন নেতাকর্মী আমার বাসায় আসে। তারা এসে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে তালা লাগিয়েছি বলে আমাকে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে যায়। কিন্তু আমি তালা লাগানোর বিষয়টি অস্বীকার করার পরও তারা আমাকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগাতে বলে জোর করে আমার ছবি তোলে। এরপর তারা আমাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের সামনে আমাকে মারধর করা হয়। বারবার সাহায্য চাওয়ার পরও কেউ এগিয়ে আসেনি।
জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম সৈকত বলেন, ছাত্রলীগ বছরের পর বছর এভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রশাসন সব জেনেও তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। আমরা চাই এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। আর ছাত্রলীগ যদি এখনো তাদের ভুল বুঝে সংযত না হয় তাহলে আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নয়, বরং হলে প্রবেশ করে পূর্বের সব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হব।
বাসা থেকে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের লিটন বলেন, সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে অস্থীতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছে। এরপর বিকেলে ছাত্রদল কর্মী মিজানুর রহমান পুনরায় নাশকতা করার উদ্দেশে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ শুধুমাত্র তাকে প্রতিহত করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমি ঘটনা জেনে দ্রুত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তারা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়তে সাহায্য করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্থীতিশীল রাখতে জন্য আমি সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করছি।
এর আগে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি ফটকে 'সর্বাত্মক অবরোধ' লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড সহকারে তালা ঝুলিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ফেলেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন